৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ধানমন্ডি লেকের খনন ও আধুনিকায়ন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ২৬ কোটি টাকা প্রাথমিক বরাদ্দে প্রায় ৩.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ লেকের খননকাজ উদ্বোধন করেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালামের উপস্থিতিতে এ প্রকল্পে দৈনিক ৭০০ ঘনমিটার স্লাজ অপসারণের ঘোষণা দেওয়া হয়।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- প্রাথমিকভাবে বরাদ্দকৃত ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ধানমন্ডি লেক খনন ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
- লেকের জলধারণ ক্ষমতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ বাড়াতে দৈনিক প্রায় ৭০০ ঘনমিটার জমে থাকা স্লাজ ও বর্জ্য অপসারণ করা হবে।
- উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় লেক এলাকায় আধুনিক ওয়াকওয়ে ছাড়াও লাইব্রেরি, জিমনেসিয়াম এবং নজরুল মঞ্চ নির্মাণের বিস্তারিত মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানীর অন্যতম প্রধান উন্মুক্ত জলাধার ও প্রাকৃতিক প্রাণকেন্দ্র ধানমন্ডি লেকের পূর্ণাঙ্গ খনন এবং পরিবেশগত আধুনিকায়ন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ উন্নয়নযজ্ঞের সূচনা করেন। এ সময় তিনি জানান, ধানমন্ডি লেককে দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক পরিসরে রূপান্তর করা তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল, যা আজ বাস্তব রূপ পেতে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম।
প্রকল্পের আওতায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই ঐতিহাসিক লেকের সংস্কারে প্রাথমিকভাবে ২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বর্জ্য ও পলি অপসারণের লক্ষ্যে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০০ ঘনমিটার স্লাজ উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, নিয়মিত খনন ও তলদেশের বর্জ্য অপসারণের মাধ্যমে লেকের জলধারণ ক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ও জলজ বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, কেবল খনন কিংবা সাময়িক সৌন্দর্যবর্ধন নয়, লেকটিকে টেকসই নাগরিক সুবিধার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলতে দুটি পৃথক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। নতুন নকশা অনুযায়ী লেকের পাড়ে সাধারণ মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটাচলা ও শরীরচর্চার ব্যবস্থার পাশাপাশি আধুনিক লাইব্রেরি, সুসজ্জিত জিমনেসিয়াম এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য একটি 'নজরুল মঞ্চ' নির্মাণ করা হবে। একইসঙ্গে তিনি লেকের পরিচ্ছন্নতা ও পানি দূষণমুক্ত রাখতে স্থানীয় বাসিন্দা এবং দর্শনার্থীদের সচেতন হওয়ার ও যত্রতত্র ময়লা না ফেলার উদাত্ত আহ্বান জানান।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ইট-পাথরের ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকায় ধানমন্ডি লেকের এই সামগ্রিক রূপান্তর নগরবাসীর মানসিক প্রশান্তি, বিনোদন এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ডিএসসিসি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে গৃহীত এ প্রকল্প দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন হলে রাজধানী ঢাকা একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নাগরিক পরিসর ফিরে পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার bd-pratidin.com-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।