গত বছরের ধনতেরসের তুলনায় চলতি বছর সোনার দাম প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩ সালের ধনতেরসে ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম ছিল প্রায় ৯৮ হাজার টাকা, যা বর্তমানে ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। বিনিয়োগকারীরা গত এক বছরে প্রতি ভরিতে প্রায় ২০ হাজার টাকা মুনাফা অর্জন করেছেন, যা স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা ও বিনিয়োগের আগ্রহ নির্দেশ করছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ২০২৩ সালের ধনতেরসে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ছিল ৯৮,০০০ টাকা, যা ২০২৪ সালে ১,১৮,০০০ টাকায় পৌঁছেছে, অর্থাৎ এক বছরে দাম বেড়েছে প্রায় ২০,০০০ টাকা।
- বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক সর্বশেষ নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১,১৮,৪৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- আন্তর্জাতিক বাজারে আউন্স প্রতি স্বর্ণের দাম ২,৭৫০ ডলার অতিক্রম করায় স্থানীয় বাজারেও এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে, যা গত এক বছরের তুলনায় প্রায় ১৯.৭৯ শতাংশ বেশি।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
চলতি বছরের ধনতেরসে সোনা কেনার পরিকল্পনা করা ক্রেতাদের জন্য বাজার পরিস্থিতি বেশ চ্যালেঞ্জিং। গত বছরের তুলনায় এবার সোনার দাম প্রতি ভরিতে প্রায় ২০ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩ সালের ধনতেরসে ২২ ক্যারেট সোনার দাম যেখানে ১ লাখ টাকার নিচে ছিল, সেখানে ২০২৪ সালে তা ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৬০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধরনের মুনাফা নিশ্চিত করলেও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য গয়না কেনা ব্যয়বহুল করে তুলেছে।
সোনার এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। বাজুসের তথ্যমতে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আউন্স প্রতি ২,৭৫০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। গত এক বছরে স্বর্ণের দাম কয়েক দফায় সমন্বয় করা হয়েছে, যার সর্বশেষ প্রভাবে একদিনের ব্যবধানেই ভরিতে ৫,৪৮২ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বিশ্বজুড়ে বেড়েছে। বাজুসের মুখপাত্র জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে স্থানীয় বাজারেও তা সমন্বয় করা ছাড়া বিকল্প নেই। তবে এই উচ্চমূল্যের কারণে খুচরা বাজারে গয়না বিক্রির পরিমাণ গত বছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
স্বর্ণের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং আমদানিনির্ভর বাজারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বিনিয়োগকারীরা এখন স্বর্ণকে মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী ঢাল হিসেবে দেখছেন। তবে সাধারণ ভোক্তাদের জন্য এই উচ্চমূল্য দীর্ঘমেয়াদে বাজারের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।