ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাম্প্রতিক প্রাক-বর্ষা জরিপে ২৯টি ওয়ার্ডকে এডিস মশার উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। নগরীতে ডেঙ্গু সংক্রমণ রোধ ও মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের লক্ষে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ডিএসসিসি জানিয়েছে, বাসা-বাড়ি ও ছাদ নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে অর্ধেকের বেশি লার্ভা শুরুতেই ধ্বংস করা সম্ভব।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) জরিপে মোট ২৯টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গু ও এডিস মশার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নগরবাসীরা যদি তাদের বাসা-বাড়ি ও আঙিনা নিয়মিত পরিষ্কার রাখেন, তবে এডিস মশার অর্ধেকের বেশি প্রজননস্থল শুরুতেই ধ্বংস করা সম্ভব।
- মশার বংশবিস্তার রোধে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি চিরুনি অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন এলাকায় ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিচালিত সাম্প্রতিক প্রাক-বর্ষা জরিপে ২৯টি ওয়ার্ডকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কীটতত্ত্ববিদ ও স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এসব ওয়ার্ডে এডিস মশার ঘনত্ব এবং লার্ভার উপদ্রব অন্যান্য এলাকার তুলনায় অনেক বেশি। বর্ষা মৌসুমের আগেই এই উচ্চ ঝুঁকি চিহ্নিত করায় মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ডিএসসিসি।
জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে শুধু সিটি করপোরেশনের চিরুনি অভিযান বা লার্ভিসাইড প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, বরং নগরবাসীর ব্যক্তিগত সচেতনতা এখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, বাসা-বাড়ির অব্যবহৃত পাত্র, ফুলের টব, এসি বা ফ্রিজের নিচে জমে থাকা পানি এবং ছাদবাগানগুলোতে এডিস মশা বেশি ডিম পাড়ে। নগরবাসী যদি সামান্য সচেতন হয়ে এসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখেন, তবে মশার অর্ধেকের বেশি প্রজননস্থল শুরুতেই ধ্বংস করা সম্ভব।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ ২৯টি ওয়ার্ডে বিশেষ নজরদারি শুরু হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নির্মাণাধীন ভবন ও এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায় এমন প্রতিষ্ঠানে কঠোর জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে লিফলেট বিতরণ, মাইকিং এবং উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার কাজ অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসার আগেই যদি এই ২৯টি ওয়ার্ডে কার্যকর সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তবে বিগত বছরের মতো এবারও ডেঙ্গুর ভয়াবহ রূপ ধারণ করার আশঙ্কা রয়েছে। তাই স্থানীয় কাউন্সিলরদের সম্পৃক্ত করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে নগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।