লাইভ
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
প্লে-স্টোর অ্যাপ

দিল্লির ঐতিহাসিক মসজিদ ঘিরে বড় হয়েছেন তাঁরা, এখন উচ্ছেদ হয়ে যেতে হলো ৩১ মাইল দূরে

প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: 04 নভেম্বর 2026, 07:00 সকাল | পড়ার সময়: 1 মিনিট | 54 বার পঠিত
দিল্লির ঐতিহাসিক মসজিদ ঘিরে বড় হয়েছেন তাঁরা, এখন উচ্ছেদ হয়ে যেতে হলো ৩১ মাইল দূরে
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ

দিল্লির ঐতিহাসিক শতাব্দীপ্রাচীন একটি প্রাচীন মসজিদ কৃষি ভবন চত্বর থেকে সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে দিল্লি হাইকোর্টে জোরালো সওয়াল করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়েছে, সরকারি জমিতে এ ধরনের ধর্মীয় স্থাপনা থাকা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের সঙ্গে বেমানান। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রাচীন মসজিদটি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও আইনি লড়াই শুরু হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • দিল্লির কৃষি ভবন চত্বরে অবস্থিত শতাব্দীপ্রাচীন প্রাচীন মসজিদটি সরকারি জমি থেকে উচ্ছেদের পক্ষে দিল্লি হাইকোর্টে অবস্থান নিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার।
  • কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবীরা আদালতে সওয়াল করেছেন যে, সরকারি জমিতে এ ধরনের ধর্মীয় স্থাপনার উপস্থিতি দেশের প্রচলিত ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
  • মসজিদ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা এর তীব্র আইনি প্রতিবাদ জানিয়ে হাইকোর্টে জমির ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

দিল্লির ঐতিহাসিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত শতাব্দীপ্রাচীন একটি প্রাচীন মসজিদকে কেন্দ্র করে আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। দিল্লির কৃষি ভবন চত্বরে যুগের পর যুগ ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এই ঐতিহাসিক মসজিদটি সরকারি জমি থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক এক শুনানিতে নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার দিল্লি হাইকোর্টে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, সরকারি চত্বরে কোনো ধর্মীয় কাঠামো বা মসজিদ টিকে থাকা উচিত নয় এবং এটি দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের পরিপন্থী। সরকারের এই অনমনীয় অবস্থানের ফলে মসজিদটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ ও আইনজীবীরা আদালত চত্বরে বা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের জমিতে ধর্মীয় স্থাপনার ব্যবহার নিয়ে কঠোর নীতি অনুসরণের কথা বলছেন। সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, প্রশাসনিক কাজের জন্য নির্ধারিত স্থানে এ ধরনের স্থাপনা রাখা প্রশাসনিক নিয়মের বরখেলাপ। তবে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে মসজিদটির অনুসারী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা এর তীব্র আইনি বিরোধিতা করছেন। তাঁদের দাবি, শতবর্ষের বেশি সময় ধরে টিকে থাকা এই মসজিদটি ওই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা কোনোভাবেই আকস্মিক সিদ্ধান্তে উচ্ছেদ করা যায় না।

দিল্লি হাইকোর্টে এই মামলার শুনানির সময় উভয় পক্ষের আইনজীবীরা নিজ নিজ যুক্তির সপক্ষে ঐতিহাসিক দলিল ও আইনি ধারা উপস্থাপন করেন। সরকারের এই কড়া পদক্ষেপের পর ভারতের বিভিন্ন ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, শতাব্দীপ্রাচীন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সাধারণ মানুষের আবেগ ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্ন জড়িত। আদালত চত্বরে এই সংবেদনশীল মামলার পরবর্তী শুনানিতে কী রায় আসে, সেদিকেই এখন আইনজ্ঞ ও সাধারণ মানুষের নজর নিবন্ধ রয়েছে।

এই ঘটনার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে দেশের অন্যান্য সরকারি জমিতে থাকা ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর ওপর। একদিকে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও সরকারি জমি উদ্ধার অভিযান এবং অন্যদিকে ধর্মীয় অধিকার ও ঐতিহ্যের সংরক্ষণ—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। এই আইনি লড়াই কেবল একটি মসজিদের উচ্ছেদ সংক্রান্ত নয়, বরং সামগ্রিকভাবে ঐতিহাসিক কাঠামোগুলোর আইনি সুরক্ষা ও সরকারের নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সম্পাদকীয় নীতি ও তথ্য যাচাই

বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

সর্বশেষ খবর ও তাৎক্ষণিক ব্রেকিং পুশ নোটিফিকেশন

প্রতিদিনের নির্ভরযোগ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সবার আগে পড়তে ইনস্টল করুন বাংলা নিউজ ২৪-এর অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। নির্ভুল খবর, তাৎক্ষণিক ব্রেকিং আপডেট ও সাবলীল পাঠ-অভিজ্ঞতা।

GET IT ON
Google Play
গুগল প্লে স্টোরে ক্লোজড বেটা ও আর্লি অ্যাক্সেস লাইভ