যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পারমাণবিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ক চুক্তির খসড়া নিয়ে আলোচনা শেষে দোহা ছেড়েছেন ইরানি আলোচকরা। কাতারের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই পরোক্ষ আলোচনায় হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত বিভিন্ন শর্ত নিয়ে মতবিনিময় হয়। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো শর্ত মানা না হলে তেহরান নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যু ও হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করার খসড়া চুক্তি নিয়ে আলোচনা শেষে কাতারের রাজধানী দোহা ত্যাগ করেছেন ইরানি আলোচক দল।
- হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামনে সুনির্দিষ্ট ৭টি শর্ত উত্থাপন করেছে তেহরান, যা পূরণ সাপেক্ষে দুই দিনের মধ্যে প্রণালী চালুর ঘোষণা দিয়েছে তারা।
- এর আগে ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছিল যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি পারমাণবিক আলোচনায় বসার কোনো পরিকল্পনা বা সদিচ্ছা তাদের নেই।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান তীব্র ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই পারমাণবিক কর্মসূচি ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত খসড়া চুক্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শেষ করে দোহা ছেড়েছেন ইরানি আলোচকরা। কাতারের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পায়। ইরানি প্রতিনিধি দলটি দোহা ত্যাগের প্রাক্কালে তাদের সুনির্দিষ্ট কূটনৈতিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানায় যে, শর্তপূরণ সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মূলত পারমাণবিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত সংবেদনশীল রুট হরমুজ প্রণালী সচল রাখার স্বার্থেই এই দোহা বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। আলোচনা চলাকালে তেহরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সামনে ৭ দফা শর্ত পেশ করা হয়। এই শর্তগুলোর মধ্যে প্রধানত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির রূপরেখা পরিবর্তনের দাবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি এই শর্তগুলো মেনে নিতে প্রস্তুত থাকে, তবে মাত্র দুই দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব।
এদিকে পারমাণবিক সংকট নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও, ইরানের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে মিশ্র বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। দেশটির নীতিনির্ধারক মহলের একটি অংশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সরাসরি দ্বিপক্ষীয় পারমাণবিক আলোচনার সম্ভাবনা সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছে। তেহরানের মতে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আগে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ ও আস্থার সংকট কাটানোর মতো উদ্যোগ না এলে কেবল খসড়া আলোচনায় দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান আসবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, দোহা থেকে ইরানি আলোচকদের এই প্রস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি রুট নিয়ন্ত্রণের এই দরকষাকষি বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে। হরমুজ প্রণালী নিয়ে তেহরানের এই কঠোর অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ৭ শর্তের বিষয়টি বৈশ্বিক তেল বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। উভয় পক্ষই যদি শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।