দেশের বাজারে দুই দিনের ব্যবধানে আবারও বাড়ল সোনার দাম। নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনা এখন বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকায়। বাজারে তেজাবী সোনার দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এই নতুন দাম নির্ধারণ করেছে, যা আজ থেকেই কার্যকর হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক নির্ধারিত নতুন দাম অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকায়।
- মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে স্থানীয় বাজারে পাকা সোনার (তেজাবী সোনা) দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
- চলতি বছর বিশ্ববাজারে সোনার মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা এবং স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটের অস্থিতিশীলতার কারণে বারবার সোনার দাম সমন্বয় করতে হচ্ছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের বাজারে আবারও রেকর্ড গড়েছে মূল্যবান ধাতু সোনার দাম। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে স্থানীয় বাজারে পাকা সোনার দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে সোনার নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকায়। দেশের ইতিহাসে সোনার এমন ঊর্ধ্বমুখী দাম সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম করেছে।
স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের এক জরুরি বৈঠকে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে গত কয়েক দফায় সোনার দাম কমা ও বাড়ার পর এবার বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেল। আন্তর্জাতিক bullion মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম চড়া থাকায় এবং স্থানীয় বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
বাজুসের নির্ধারিত নতুন মূল্য তালিকায় দেখা গেছে, ২২ ক্যারেটের পাশাপাশি ২১ ক্যারেট এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দামও আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান অস্থিরতা, মুদ্রাস্ফীতি এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় হারের ওঠানামার কারণে সোনার বাজারে এই অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, এই লাগামহীন দাম বৃদ্ধির ফলে ঐতিহ্যগতভাবে সোনা কেনার প্রবণতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনার এই অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধি দেশের অভ্যন্তরীণ অলংকার শিল্প ও খুচরা বাজারে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সঞ্চয় ও বিয়ের মতো সামাজিক অনুষ্ঠানে সোনার বিকল্প ব্যবহারের প্রবণতা বাড়াতে বাধ্য করছে। বাজুস জানিয়েছে, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই কেবল দেশের বাজারে এই দাম নির্ধারণ করা হয় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তীতে দাম কমানো হতে পারে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।