বাংলাদেশের কর্মক্ষম জনমিতির সুবিধা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে ধীরগতির কারণে তরুণ জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে রূপান্তরে হাতে মাত্র ১৯ বছর সময় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, আগামী দুই দশকের মধ্যে দেশে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমতে শুরু করবে। বর্তমানে প্রায় ৮৪ শতাংশ শ্রমিক অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত এবং ৬০ শতাংশ স্নাতক ডিগ্রিধারী বেকারত্ব এড়াতে অন্য পেশায় যুক্ত হচ্ছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা অনুযায়ী, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রকৃত জনসম্পদে রূপান্তরের জন্য বাংলাদেশের হাতে আর মাত্র ১৯ বছর সময় অবশিষ্ট রয়েছে।
- বর্তমানে দেশের শ্রমবাজারের প্রায় ৮৪ শতাংশ শ্রমিক অনানুষ্ঠানিক খাতের সাথে যুক্ত থেকে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
- চাকরি না পাওয়ার কারণে দেশের ৬০ শতাংশ স্নাতক বা ডিগ্রিধারী তরুণ বাধ্য হয়ে তাদের অর্জিত শিক্ষার বাইরে অন্য কাজে নিয়োজিত হচ্ছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বাংলাদেশের সামনে জনমিতির লভ্যাংশ বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগানোর সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, তরুণ জনগোষ্ঠীকে কার্যকর জনসম্পদে রূপান্তর করার জন্য দেশের হাতে আর মাত্র ১৯ বছর সময় রয়েছে। এর পরপরই অর্থাৎ আগামী দুই দশক পর থেকেই বাংলাদেশের কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমতে শুরু করবে, যা দীর্ঘমেয়াদী অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
দেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টির ধীরগতির কারণে যুবসমাজের একটি বড় অংশ অর্থনৈতিক মূলধারার বাইরে রয়ে গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের শ্রমশক্তির প্রায় ৮৪ শতাংশই বর্তমানে অনানুষ্ঠানিক খাতের ওপর নির্ভরশীল। এর ফলে শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা, ন্যায্য মজুরি এবং পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি আনুষ্ঠানিক খাতে সুযোগের অভাব বেকারত্ব সমস্যাকে আরও প্রকট করে তুলেছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝাতে গবেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, উচ্চশিক্ষা সমাপ্তকারী ৬০ শতাংশ স্নাতক ডিগ্রিধারী ব্যক্তিও তাদের যোগ্যতানুযায়ী চাকরি না পেয়ে ভিন্ন বা নিম্ন আয়ের পেশায় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। কর্মসংস্থানের এই স্থবিরতা কেবল ব্যক্তিগত হতাশা বাড়াচ্ছে না, বরং দেশের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যকেও ব্যাহত করছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দক্ষ জনবল তৈরিতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জনমিতিক সম্ভাবনা বড় চ্যালেঞ্জে রূপ নিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট উত্তরণে সরকারকে অবিলম্বে শিল্পায়ন, প্রযুক্তিগত শিক্ষা এবং উদ্যোক্তা তৈরিতে বিশেষ প্রণোদনা দিতে হবে। আনুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি যুবসমাজকে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞানে দক্ষ করে তুলতে না পারলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখা অসম্ভব হবে। আগামী দুই দশকের এই সময়সীমা বাংলাদেশের নীতিপ্রণেতাদের জন্য একটি কঠোর হুশিয়ারি হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।