৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"ঐতিহ্যবাহী শোভাবাজার রাজবাড়ির ২৭০তম দুর্গাপুজো শুরু হতে চলেছে। কলকাতার অন্যতম প্রাচীন এই রাজবাড়িতে দেবীর আরাধনা হবে ঐতিহ্যবাহী ডাকের সাজে। শতবর্ষের প্রাচীন রীতি মেনে মহাসপ্তমী থেকে মহাষ্টমীতে বিশেষ পূজা ও ১০৮ প্রদীপের আরতি অনুষ্ঠিত হবে। রাজপরিবারের এই পূজায় প্রাচীন কৃষ্টি ও সংস্কৃতির অনন্য সমাহার দেখতে প্রতিদিন হাজারো ভক্তের সমাগম ঘটে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- শোভাবাজার রাজবাড়ির দুর্গাপুজো এ বছর তার ঐতিহ্যের ২৭০ বছর পূর্ণ করছে, যা কলকাতার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সার্বজনীন ও পারিবারিক পুজো হিসেবে পরিচিত।
- দেবী প্রতিমা সাজাতে এবারও ঐতিহ্যবাহী 'ডাকের সাজ' ব্যবহার করা হচ্ছে, যা রাজবাড়ির প্রাচীন কৃষ্টি ও আভিজাত্যের প্রধান প্রতীক।
- পুজো চলাকালীন মহাষ্টমীর সন্ধিপূজায় ১০৮ প্রদীপের বিশেষ আরতি এবং ঐতিহ্যবাহী ধুনুচি নাচ রাজবাড়ির পূজার মূল আকর্ষণ হিসেবে বজায় থাকবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কলকাতার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যমণ্ডিত পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম শোভাবাজার রাজবাড়ির দুর্গাপুজো এবার তার গৌরবময় ২৭০ বছরে পদার্পণ করেছে। রাজা নবকৃষ্ণ দেবের আমল থেকে শুরু হওয়া এই পুজোর ঐতিহ্য ও আভিজাত্য আজও অটুট রয়েছে। প্রতি বছরই এই পুজোকে কেন্দ্র করে রাজধানী শহর ঢাকাসহ সারা দেশের দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়, যা বাঙালি সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত।
এবারের পুজোতেও শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রতিমা তৈরিতে এবং সাজসজ্জায় বজায় রাখা হয়েছে তাদের শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য। আধুনিক থিম কিংবা কৃত্রিমতার ভিড়ে হারিয়ে না গিয়ে রাজপরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিমা সাজানোর ক্ষেত্রে প্রথাগত 'ডাকের সাজ'-কেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। খাঁটি সোনা ও রুপার রূপালী তারের কাজ এবং শৈল্পিক সুষমামণ্ডিত এই ডাকের সাজ দেবীর রূপকে আরও বেশি মহিমান্বিত করে তোলে, যা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন।
রাজপরিবারের পারিবারিক নিয়ম ও আচার-অনুষ্ঠান মেনে মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী ও মহানবমীর পুজো সম্পন্ন হয়। বিশেষ করে মহাষ্টমীর দিন ১০৮ প্রদীপের আলোয় যে মহাসন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হয়, তা দেখতে নাটমন্দিরে তিল ধারণের ঠাঁই থাকে না। রাজবাড়ির প্রাচীন ঢাকের বোল, কাঁসর ও শঙ্খের ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ, যা দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় শতবর্ষ আগের পুরনো দিনে।
বাঙালি সংস্কৃতির এই প্রাচীন ঐতিহ্য বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং আবহমানকালের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ইতিহাস সংরক্ষণ করতে শোভাবাজার রাজবাড়ির এই পুজো বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে। যুগের পরিবর্তন ঘটলেও রাজপরিবারের কঠোর নিয়মানুবর্তিতা এবং ভক্তিপূর্ণ আয়োজনের কারণে এই পুজো আজও কলকাতার দুর্গাপুজোর মানচিত্রে এক অনন্য ও অবিস্মরণীয় স্থান দখল করে আছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার News18 Bengali-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।