৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার ব্লকের দুর্গাপুরে শতাব্দীপ্রাচীন ভূপালপুর রাজবাড়ির দুর্গাপুজো ঐতিহ্য ও নিয়মনীতি মেনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজা ভূপাল চন্দ্র রায় চৌধুরীর বংশধরেরা একচালার ডাকের সাজের প্রতিমা এবং নিয়মনিষ্ঠা বজায় রেখে এই পুজো চালিয়ে যাচ্ছেন। নবমীর পুজোয় ভোগ ও প্রসাদী ফল উঁচুতে বেঁধে রেখে তা নামানোর বিশেষ গ্রামীণ আনন্দ উৎসব এখানকার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার ব্লকের দুর্গাপুরে অবস্থিত ঐতিহাসিক ভূপালপুর রাজবাড়ির দুর্গাপুজো পরিচালনা করছেন রাজা ভূপাল চন্দ্র রায় চৌধুরীর বংশধরেরা।
- এই প্রাচীন পুজোয় দেবীর একচালার ডাকের সাজের প্রতিমা ব্যবহার করা হয়, যেখানে অসুরের গায়ের রঙ ঘন সবুজ এবং দেবীর মাথার ওপর ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের অধিষ্ঠান থাকে।
- নবমীর পুজোয় ঠাকুরদালানের উঁচু জায়গায় পুজোর ভোগ ও প্রসাদী ফল বেঁধে রাখা হয়, যা পরে গ্রামবাসী ও পরিবারের সদস্যরা প্রতিযোগিতা করে নামিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার ব্লকের দুর্গাপুরে অবস্থিত ঐতিহাসিক ভূপালপুর রাজবাড়ির দুর্গাপুজো গ্রামীণ জনপদে শত শত বছর ধরে ঐতিহ্য ও আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে রয়েছে। রাজা ভূপাল চন্দ্র রায় চৌধুরীর বংশধরদের উদ্যোগে আয়োজিত এই পুজোর মূল আকর্ষণ হলো একচালার ডাকের সাজের প্রতিমা এবং প্রাচীন জমিদারী রীতিনীতির নিখুঁত অনুসরণ। সময়ের বিবর্তনে কিছু আচার-প্রথায় পরিবর্তন এলেও দেবীর আরাধনার অন্তর্নিহিত ভাবগাম্ভীর্য আজও অক্ষুণ্ণ রয়েছে।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, রাজ পরিবারের আদি বাড়ি ছিল ইটাহারের চূড়ামন এলাকায়। পরবর্তীতে মহানন্দা নদীর ভাঙনে রাজবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে বর্তমান দুর্গাপুর এলাকায় নতুন রাজপ্রাসাদ ও দেবী মন্দির নির্মাণ করা হয়। অতীতে মহালয়া থেকেই জোড়া মোষ ও বলিদানের মাধ্যমে পূজার সূচনা হলেও বর্তমানে মহাষষ্ঠীতে বোধনের মাধ্যমে পূজা শুরু হয় এবং বলি প্রথা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তবে এই পুজোয় প্রতিমার রূপসজ্জায় কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যার মধ্যে অসুরের ঘন সবুজ রঙের শরীর এবং দেবীর মাথার ওপর ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের উপস্থিতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
রাজ পরিবারের বর্তমান বংশধর অভিষেক রায় চৌধুরী জানান, অতীতে মহালয়া থেকে শুরু করে পুজোর দিনগুলিতে রাজবাড়িতে যাত্রাপালা, থিয়েটার ও সার্কাসের আসর বসত এবং হাজার হাজার মানুষের ভোজনের ব্যবস্থা করা হতো। কালের পরিক্রমায় জাঁকজমক কিছুটা কমলেও স্থানীয় মানুষের উন্মাদনা ও ভক্ত সমাগমে আজও কোনো ঘাটতি দেখা যায় না। বিশেষ করে নবমীর দিন ঠাকুরদালানের উঁচুতে ভোগ ও প্রসাদ বেঁধে রাখার যে প্রাচীন রীতি, তা গ্রামীণ লোকসংস্কৃতির এক আনন্দঘন দৃশ্যের অবতারণা করে।
দশমীর দিন এই রাজবাড়ির প্রাঙ্গণে বিশাল মেলা বসে, যা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ ভিড় জমান। নদীভাঙন ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে টিকে থাকা এই রাজবাড়ির দুর্গাপুজো শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ ইতিহাস ও সংস্কৃতির এক বর্ণিল দলিল হিসেবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে তার স্বকীয়তা বজায় রেখে চলেছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার ABP Ananda-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।