কলকাতার বাবুঘাটে বিজয়া দশমীর প্রতিমা নিরঞ্জন পরিদর্শনে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি নির্দেশ দেন, শুধুমাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বীরাই প্রতিমা স্পর্শ করতে পারবেন এবং প্রতিমা বহনকারীদের নাম-পরিচয় পুলিশ কমিশনারকে চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন। এই মন্তব্যের জেরে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে শাসকদল তৃণমূল ও বাম-কংগ্রেস নেতৃত্ব কড়া সমালোচনা করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বিজয়া দশমীতে কলকাতার বাবুঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জনের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিদর্শনে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দেন যে শুধুমাত্র সনাতন ধর্ম মান-মান্যকারীরাই প্রতিমাকে হাত দিতে পারবেন।
- শুভেন্দু অধিকারী প্রতিমা বহনকারীদের নাম ও পরিচয় সিপি বা পুলিশ কমিশনারকে চিহ্নিত করে দেওয়ার কথা বলেন, যা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
- তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এবং সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, হিন্দুধর্মের উদার ঐতিহ্য এবং শ্রীরামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের আদর্শের পরিপন্থী এই বক্তব্য।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কলকাতার বাবুঘাটে বিজয়া দশমীর প্রতিমা নিরঞ্জন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনের সময় পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার ঘাটে প্রতিমা নামানো ও ঘোরানোর প্রক্রিয়ার মধ্যে তিনি আকস্মিক এক নির্দেশ দিয়ে জানান যে, যাঁরা সনাতন ধর্ম মানেন, একমাত্র তাঁরাই প্রতিমা স্পর্শ করতে পারবেন। একইসঙ্গে প্রতিমা বহনকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় পুলিশের কাছে চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
এই মন্তব্যের পরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে মুখপাত্র কুণাল ঘোষ তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, হিন্দুধর্ম কখনোই এত সংকীর্ণ নয় এবং শ্রীরামকৃষ্ণ, স্বামী বিবেকানন্দ কিংবা শ্রীচৈতন্যদেবের আদর্শে এই ধরণের জাতপাত বা ধর্ম দেখে স্পর্শ করার কোনো স্থান নেই। অন্যদিকে, প্রদেশ কংগ্রেস মুখপাত্র সুমন রায়চৌধুরী এবং সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষও এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, রবীন্দ্র-নজরুলের বাংলায় এমন মন্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজনের উস্কানি দেয়।
বিতর্ক বাড়লেও নিজের অবস্থানে অনড় থেকে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন যে, এর মধ্যে কোনো সাম্প্রদায়িকতা নেই। এটি কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ঐতিহ্য ও পবিত্রতা রক্ষা করার একটি প্রয়াস মাত্র। এর আগে চোরবাগানের পুজোয় পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা নিয়েও বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী পুজোর থিম ও দাপাদাপি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, যার পাল্টা জবাব দিয়ে তৃণমূল দাবি করে যে ওই পুজোর দীর্ঘ ৯১ বছরের ইতিহাস রয়েছে এবং এর দায় বিরোধীদের ঘাড়েই বর্তায়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গনে ধর্মনিরপেক্ষতা বনাম বিশুদ্ধ সনাতন ধর্মের চর্চা নিয়ে নতুন করে তরজা শুরু হয়েছে। ধর্মীয় উৎসবে পরিচয়ভিত্তিক কড়াকড়ি আরোপের এই নির্দেশ সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন পূজা কমিটির মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে, যা আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণগুলোতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।