৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"আজ মহাসপ্তমীতে ভোরে গঙ্গার ঘাটে নবপত্রিকা স্নান ও প্রাণ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দুর্গাপুজোর মূল আচার শুরু হয়েছে। কৃষিপ্রধান বাংলার প্রতীক এই নবপত্রিকা কোনো সাধারণ পাতা নয়, এটি কলা, কচু, হলুদ, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক, মান ও ধান—এই নয়টি উদ্ভিদের সমন্বয়ে গঠিত। শাস্ত্রীয় মতে, নবপত্রিকা গণেশের স্ত্রী নন, বরং এটি দেবী দুর্গারই একটি রূপ।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- নবপত্রিকা মূলত নয়টি উদ্ভিদ—কলা, কচু, হলুদ, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক, মান ও ধান দিয়ে তৈরি, যা কৃষিপ্রধান বাংলার সমৃদ্ধির প্রতীক।
- সপ্তমীর ভোরে সাদা অপরাজিতা লতা দিয়ে নয়টি উদ্ভিদ বেঁধে এবং লালপাড় সাদা শাড়ি পরিয়ে বধূর আকার দিয়ে গঙ্গার ঘাটে মহাস্নান করানো হয়।
- জনমানসে প্রচলিত ধারণা ভুল যে কলা বউ গণেশের স্ত্রী; পুরাণবিদ নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী ও বেলুড় মঠের মতে নবপত্রিকা আসলে দেবী দুর্গারই নবদুর্গা রূপ।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আজ মহাসপ্তমীতে ঢাকের বাদ্য আর উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে মণ্ডপগুলো। লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ ও কার্তিককে সঙ্গে নিয়ে দেবী দুর্গার বাপের বাড়িতে অবস্থানের এই দিনে ভোরে গঙ্গার ঘাটে নবপত্রিকা স্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে মূল আচার। এরপর দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা এবং শাস্ত্রমতে ষোড়শ উপাচারে শুরু হয়েছে সপ্তমীর পুজো। সকাল থেকেই মণ্ডপ ও গঙ্গার ঘাটগুলোতে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
সাধারণভাবে ‘কলাবউ’ নামে পরিচিত হলেও এর আসল নাম নবপত্রিকা, যার অর্থ নয়টি গাছের পাতা নয় বরং নয়টি সম্পূর্ণ উদ্ভিদ। কৃষিপ্রধান বাংলার ঐতিহ্য ও প্রকৃতির আরাধনাকে কেন্দ্র করে এই প্রথা গড়ে উঠেছে। গাছগুলো হলো কলা, কচু, হলুদ, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক, মান এবং ধান। প্রথমে পাতাশুদ্ধ একটি কলাগাছের সঙ্গে বাকি আটটি উদ্ভিদ বেঁধে, সঙ্গে এক জোড়া বেল দিয়ে, সাদা অপরাজিতা লতা দিয়ে শক্ত করে বাঁধা হয়। এরপর লালপাড় সাদা শাড়ি জড়িয়ে ঘোমটা দেওয়া বধূর রূপ দেওয়া হয়।
বাঙালি সমাজে দীর্ঘদিন ধরে একটি ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে যে কলা বউ বুঝি গণেশের স্ত্রী। তবে বেলুড় মঠ ও বিশিষ্ট পুরাণবিদ নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ীর মতে, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। নবপত্রিকা বা কলাবউ আসলে দেবী দুর্গারই একটি রূপ এবং তিনি গণেশের জননী। দেবীকে আহ্বান করার জন্য একটি জীবন্ত মাধ্যমের প্রয়োজন হয়, আর সপ্তমী তিথিতে এই নয়টি গাছের গুচ্ছের মধ্যেই দেবতাকে আহ্বান করা হয়। স্নানের পর একে গেরুয়া বা লালপেড়ে কাপড়ে ঢেকে প্রতিমার ডান পাশে স্থাপন করা হয়।
প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের নিবিড় সংযোগ এবং কৃষিভিত্তিক সমাজব্যবস্থার মেলবন্ধনেই মূলত এই নবপত্রিকা পুজোর তাৎপর্য নিহিত। মহাসপ্তমীর এই আচারের মধ্য দিয়ে পরিবেশ ও প্রকৃতির উপাদানগুলোকে দেবীরূপে সম্মান জানানো হয়। দর্পণে মহাস্নান, প্রাণপ্রতিষ্ঠা এবং ষোড়শ উপাচারে পুজো সম্পন্ন হওয়ার পর ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ ও সন্ধ্যার আরতির মধ্য দিয়ে সপ্তমীর সার্বিক আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্ত হয়।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার ABP Ananda-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।