দুর্গাপুজোর নবমী ও দশমীর আনন্দ উদযাপনের শেষবেলায় আবহাওয়ার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ ভারতে ‘রিটার্ন মনসুন’ বা মৌসুমী বায়ুর প্রত্যাবর্তনের প্রভাব এবং বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সপ্তমী ও অষ্টমীতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পর নবমীতেও আকাশ মেঘলা থাকায় মণ্ডপে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভোগান্তির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- দক্ষিণ ভারতে ইতোমধ্যে ‘রিটার্ন মনসুন’ বা মৌসুমী বায়ুর প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় বাংলার আবহাওয়াতেও এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
- চলতি দুর্গোৎসবের সপ্তম ও অষ্টমীতে কলকাতা এবং এর আশেপাশের জেলাগুলোতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির কারণে সাধারণ মানুষ ও পূজারীগণ ভোগান্তির মুখে পড়েন।
- আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নবমী ও দশমীর দিনগুলোতেও উপকূলীয় ও পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে যা মণ্ডপ ঘুরে বেড়ানোর আনন্দকে কিছুটা ম্লান করতে পারে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দঘন দিনগুলোর শেষ পর্যায়ে এসে আবহাওয়ার ভোলবদল নিয়ে রাজ্যজুড়ে প্যান্ডেল হপিংপ্রেমী ও আয়োজকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। মহাসপ্তমী এবং মহাঅষ্টমীর উৎসবে দফায় দফায় বৃষ্টির দেখা মিললেও মহা নবমীর দিনেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, দক্ষিণ ভারতে ইতিমধ্যেই ‘রিটার্ন মনসুন’ বা মৌসুমী বায়ুর বিদায়লগ্নের সক্রিয়তা শুরু হয়েছে, যার পরোক্ষ প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প প্রবেশ করছে বাংলায়।
চলতি পুজোয় চতুর্থী ও পঞ্চমী থেকেই ভ্যাপসা গরম ও আর্দ্রতার জেরে অস্বস্তি ছিল। তবে সপ্তমীর বিকেলে হঠাৎ করেই মেঘে ঢেকে যায় কলকাতার আকাশ। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। অষ্টমীর সকালেও আবহাওয়া পুরোপুরি অনুকূল ছিল না। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং রাজধানী কলকাতাসহ বেশ কিছু অঞ্চলে আকস্মিক বৃষ্টিতে পূজার আনন্দ কিছুটা ব্যাহত হয়। ছাতা হাতে বা বৃষ্টি মাথায় নিয়েই দর্শনার্থীদের মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় জমাতে দেখা যায়।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমী বায়ু তার প্রত্যাবর্তনের পথে রয়েছে এবং এর ফলে বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প জমা হচ্ছে। এর জেরে নবমী ও দশমীর দিনগুলোতেও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকবে এবং দুপুরের পর বা সন্ধ্যার দিকে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে এর প্রভাব বেশি পড়তে পারে। তবে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে আবহাওয়া মূলত শুষ্ক ও মনোরম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
উৎসবের আনন্দ বজায় রাখতে রাজ্যবাসীর একাংশ এই খামখেয়ালি আবহাওয়াকে উপেক্ষা করেই ঠাকুর দেখতে রাস্তায় নেমেছেন। পুজো কমিটিগুলোও সম্ভাব্য বৃষ্টি মোকাবিলায় বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আবহাওয়া দপ্তরের এই সতর্কবার্তা নবমীর রাতে প্রতিমা দর্শন এবং বিজয়া দশমীর সিঁদুর খেলা ও প্রতিমা বিসর্জনের কর্মসূচিতে কিছুটা হলেও বিঘ্ন ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।