দীপাবলির সকালে দিল্লির বায়ুর গুণমান সূচক (AQI) বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। শহরের ৫৪টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে দূষণমাত্রা ‘ভয়ানক’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার গ্র্যাপ-৩ (GRAP-III) বিধিনিষেধ জারি করেছে এবং ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আতশবাজির ধোঁয়ায় রাতের দিকে দূষণ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করার আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- দিল্লির ৫৪টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে বাতাসের গুণমান সূচক (AQI) ৪০০-এর গণ্ডি ছাড়িয়ে ‘ভয়ানক’ বা ‘সিভিয়ার’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে।
- কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নির্দেশে দিল্লিতে গ্র্যাপ-৩ (GRAP-III) বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে, যার আওতায় নির্মাণকাজ ও ভারী যানবাহন চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
- দিল্লি সচিবালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী, দূষণ কমাতে সরকারি ও বেসরকারি অফিসের ৫০ শতাংশ কর্মীকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দীপাবলির সকালে বিষাক্ত ধোঁয়াশায় ঢেকেছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। শহরের ৫৪টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে বাতাসের গুণমান সূচক (AQI) বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছানোয় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দীপাবলির রাতে আতশবাজি পোড়ানোর ফলে দূষণের মাত্রা আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে গ্র্যাপ-৩ (GRAP-III) বিধিনিষেধ কার্যকর করেছে, যা নির্মাণকাজ ও দূষণকারী শিল্পকারখানার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।
দিল্লির এই ভয়াবহ বায়ুদূষণের নেপথ্যে রয়েছে ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো, ধীরগতির বাতাস এবং দীপাবলির প্রাক্কালে আতশবাজির ব্যাপক ব্যবহার। গত কয়েক বছর ধরে শীতের শুরুতে দিল্লির বাতাস যে বিষাক্ত হয়ে ওঠে, তা এবারও পুনরাবৃত্তি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দিল্লি সরকার সরকারি ও বেসরকারি অফিসের ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে রাস্তায় যানবাহনের চাপ ও ধূলিকণা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বাতাসের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার পরিবর্তনের ফলে দূষিত কণাগুলো বায়ুমণ্ডলের নিচের স্তরে আটকে থাকছে, যা ফুসফুস ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দিল্লির পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতেও বাতাসের মান ‘খুব খারাপ’ থেকে ‘ভয়ানক’ পর্যায়ে রয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের এবং বয়স্কদের এই সময়ে ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
এই দূষণ সংকট কেবল জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে না, বরং দিল্লির সামগ্রিক অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানকেও ধীরগতির করে দিচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য আন্তঃরাজ্য সমন্বয় এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সময়ের দাবি। দীপাবলির উৎসবের আনন্দ যেন বিষাক্ত বাতাসে ম্লান না হয়ে যায়, সেজন্য সাধারণ মানুষকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।