প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রস্তাবিত দ্বিতীয় পদ্মা সেতুটি 'ওয়াই' (Y) আকৃতির হবে, যা মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও রাজবাড়ীর গোয়ালন্দকে সংযুক্ত করার পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। সরকার এই মেগা প্রকল্পগুলোর জন্য দ্রুত সমীক্ষা শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- প্রস্তাবিত দ্বিতীয় পদ্মা সেতুটি পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ রুটে নির্মিত হবে এবং এর নকশা হবে 'ওয়াই' (Y) আকৃতির, যা একইসাথে একাধিক জেলাকে সরাসরি সড়ক ও রেল নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করবে।
- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতু বিভাগকে দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতুর পাশাপাশি পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ করার জন্য কঠোর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন।
- এই প্রকল্পের মাধ্যমে বৃহত্তর রংপুর ও রাজশাহী বিভাগকে সরাসরি রাজধানীর সাথে যুক্ত করে দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক করিডোর শক্তিশালী করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচনে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সেতুর নকশা 'ওয়াই' (Y) আকৃতির করার নির্দেশনা দিয়েছেন, যা মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া এবং রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পয়েন্টকে সংযুক্ত করবে। এই মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর সাথে ঢাকার দূরত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং যাতায়াত ব্যবস্থা আরও সহজতর হবে।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর পাশাপাশি দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হচ্ছে। সেতু বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কারিগরি ও অর্থনৈতিক সমীক্ষা শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ রুটে প্রস্তাবিত এই সেতুর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬.১০ কিলোমিটার হতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, যা যাতায়াত সময় ও জ্বালানি খরচ সাশ্রয় করে জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, 'ওয়াই' আকৃতির নকশার ফলে সেতুটি কেবল দুটি পয়েন্টকে যুক্ত করবে না, বরং এটি একটি জংশন হিসেবে কাজ করবে যা বিভিন্ন রুটের যানবাহনকে সুশৃঙ্খলভাবে চলাচলের সুযোগ দেবে। প্রধানমন্ত্রী যমুনা নদীর ওপর আরেকটি সেতু নির্মাণের মাধ্যমে বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলকে সরাসরি রেল ও সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১.২ থেকে ১.৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ সম্পন্ন হলে কৃষি ও শিল্প খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর ধরে রাখা এবং লবণাক্ততা রোধে পদ্মা ব্যারেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সরকারের এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক লজিস্টিকস ও সাপ্লাই চেইন নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হবে, যা ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যমাত্রাকে ত্বরান্বিত করবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।