নিউটাউনের ইকো পার্ক সংলগ্ন হরিণালয় মিনি জু-তে শীঘ্রই যুক্ত হতে চলেছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। রাজ্য বনমন্ত্রী জানান, জিরাফ ও জেব্রার পর এবার নিউটাউনের মিনি চিড়িয়াখানায় বাঘ আনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। ইংরেজি নতুন বছরে দর্শনার্থীরা নিউটাউনেই বাঘ দেখার সুযোগ পাবেন। এই পদক্ষেপে কলকাতার আলিপুর চিড়িয়াখানার উপর চাপ কমার পাশাপাশি পর্যটকদের আকর্ষণ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- নিউটাউনের ইকো পার্ক সংলগ্ন হরিণালয় মিনি জু-তে নতুন আকর্ষণ হিসেবে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার আনার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- রাজ্য বনমন্ত্রী সম্প্রতি চিড়িয়াখানাটি সরেজমিন পরিদর্শন করে বাঘের খাঁচা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেছেন এবং দ্রুত বাঘ স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন।
- এর আগে এই মিনি জু-তে জিরাফ ও জেব্রা সফলভাবে আনার পর, এবার বাঘ আসার মধ্য দিয়ে নিউটাউনের পর্যটনে এক নতুন মাত্রা যোগ হতে চলেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানী কলকাতার অদূরে নিউটাউনবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার ইকো পার্কের কাছে অবস্থিত হরিণালয় মিনি জু-তে যুক্ত হতে চলেছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। রাজ্য বন দপ্তরের পক্ষ থেকে এই মেগা প্রজেক্টের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী হরিণালয় মিনি চিড়িয়াখানাটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং খাঁচার নির্মাণকাজ ও সার্বিক পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ইংরেজি নতুন বছরেই নিউটাউনের মিনি জু-তে বাঘের গর্জনে মুখরিত হয়ে উঠবে চারপাশ।
এর আগে নিউটাউনের এই মিনি চিড়িয়াখানায় আফ্রিকার জঙ্গল থেকে জিরাফ এবং জেব্রা এনে দর্শকদের নজর কেড়েছিল বন দপ্তর। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবার বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের জন্য রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আলিপুর চিড়িয়াখানার উপর পর্যটকদের অতিরিক্ত চাপ কমাতে এবং নিউটাউনকে একটি বিশ্বমানের ট্যুরিজম হাব হিসেবে গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাঘের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে আধুনিক প্রযুক্তির এনক্লোজার বা খাঁচা তৈরি করা হচ্ছে, যা বন্যপ্রাণীর প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
পরিদর্শন শেষে বনমন্ত্রী জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী কলকাতার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোকে পর্যটনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। নিউটাউনের হরিণালয়ে ইতিমধ্যেই হরিণ, জেব্রা, জিরাফসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও বন্যপ্রাণী রয়েছে। তাদের সঙ্গে এবার রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার যুক্ত হলে তা কলকাতার বিনোদন জগতে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করবে। বন দপ্তরের আধিকারিক ও বিশেষজ্ঞদের একটি বিশেষ দল বাঘের খাদ্যতালিকা, স্বাস্থ্যরক্ষা এবং সার্বিক দেখভালের জন্য সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে।
এই প্রকল্পের ফলে নিউটাউন এবং সংলগ্ন এলাকার হোটেল ব্যবসা, রেস্তোরাঁ ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন। দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা এখন এক ছাদের নিচেই একাধিক বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ পাবেন। পরিবেশবিদরাও মনে করছেন, চিড়িয়াখানার পরিসর আধুনিকায়ন এবং বন্যপ্রাণীর সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করলে তা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।