৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"বাংলাদেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দ্রুত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা। শপআপ, ইস্টার্ন ব্যাংক এবং ঢাকা ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীরা উল্লেখ করেছেন যে, চালান যাচাই থেকে শুরু করে কোডিং এবং গ্রাহকসেবায় এআই ব্যবহারের ফলে দক্ষতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সময় বাঁচছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- শপআপের প্রকৌশল বিভাগে বর্তমানে ৯৯ শতাংশের বেশি কোড কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি করা হচ্ছে এবং নতুন পণ্যের নমুনা তৈরির সময় কয়েক সপ্তাহ থেকে কমে প্রায় এক ঘণ্টায় নেমে এসেছে।
- মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির কথোপকথনভিত্তিক এআই সহকারী গত এক বছরে গ্রাহকসেবার ৭ শতাংশ অনুরোধ মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই সমাধান করেছে এবং বছরের শেষ নাগাদ এটি ৩০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
- বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে এআই মানুষকে প্রতিস্থাপন করবে না, তবে যারা এআই ব্যবহার করবে তারা এটি ব্যবহার না করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজার দখল করে নেবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বৈশ্বিক ব্যবসা পরিচালনার ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন শুধু বাড়তি সুবিধা নয়, বরং ব্যবসার দক্ষতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত এআই গ্রহণের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, কেবল প্রচলিত ডিজিটাল ব্যবস্থার উন্নয়ন করলেই হবে না, বরং প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালন পদ্ধতিতেই বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে।
শপআপের সভাপতি মামুন রশীদ জানান, বাংলাদেশের আর্থিক ও ব্যবসায়িক খাত এক বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির স্বতন্ত্র পরিচালক খোন্দকার আতিকে-ই-রাব্বানি এফসিএ উল্লেখ করেন, এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতির কারণে ব্যবসা পরিচালনার ধরন ও প্রতিযোগিতা মূলক পদ্ধতিতে মৌলিক পরিবর্তন আসছে। ঢাকা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান এরশাদ ফয়েজ ব্যাংকিং খাতের অভ্যন্তরীণ দক্ষতা বাড়াতে এআই ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে বলেন, প্রশাসনিক কাজের কর্মীরা তখন বিক্রয় ও গ্রাহক সেবায় মনোনিবেশ করতে পারবেন।
প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ তুলে ধরে শপআপের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী আতাউর রহিম চৌধুরী জানান, চালান যাচাই ও আর্থিক সফটওয়্যারে তথ্য প্রবেশের মতো নিয়মিত কাজগুলো স্বয়ংক্রিয় হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া সিলকের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা সুজাত আলী জানান যে তাদের প্রকৌশল কোডের ৯৯ শতাংশের বেশি এখন এআইয়ের সহায়তায় তৈরি হচ্ছে। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের প্রধান ডিজিটাল কর্মকর্তা খালিদ হোসাইন জানান, তাদের এআই সহকারী বর্তমানে গ্রাহকসেবার ৭ শতাংশ অনুরোধ মানুষের সাহায্য ছাড়াই সমাধান করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো সময়মতো এআই গ্রহণ করতে পারলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, খরচ কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব হবে। তবে সফল বাস্তবায়নের জন্য দক্ষ জনবল, মানসম্মত তথ্য এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার citizensvoicebd.com-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।