৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের শেয়ার কেনার প্রবল হিড়িকে মার্কিন শেয়ার বাজার ইতিহাসের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে। গত মঙ্গলবার ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান সূচক এস অ্যান্ড পি ৫০০ সূচক ০.৫৮ শতাংশ বেড়ে নতুন রেকর্ড গড়ে এবং নাসডাক কম্পোজিট সূচক ০.৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। মেটা ছাড়া ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেনের সব শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- মঙ্গলবার ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান সূচক 'এস অ্যান্ড পি ৫০০' আগের দিনের তুলনায় ০.৫৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছায় এবং 'নাসডাক কম্পোজিট' সূচক ০.৪৫ শতাংশ বেড়ে নতুন রেকর্ড গড়ে।
- শীর্ষ সাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অ্যামাজনের শেয়ারের দাম সবচেয়ে বেশি ১.৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, এছাড়া মাইক্রোসফট ০.৭৮ শতাংশ, টেসলা ০.৫১ শতাংশ এবং এনভিডিয়া ০.১৪ শতাংশ বৃদ্ধি রেকর্ড করে।
- ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত এস অ্যান্ড পি ৫০০ সূচক ১৪ শতাংশ এবং নাসডাক কম্পোজিট সূচক ১৮.৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা টানা চতুর্থ বছরের মতো ডাবল-ডিজিট রিটার্ন অর্জনের পথ তৈরি করেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের তুমুল আগ্রহ ও শেয়ার কেনার ব্যাপক হিড়িকে মার্কিন শেয়ার বাজার ইতিহাসের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে। গত মঙ্গলবার ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান সূচক 'এস অ্যান্ড পি ৫০০' (S&P 500) আগের দিনের তুলনায় ০.৫৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে গত আগস্টের মাঝামাঝি সময়ের রেকর্ড অতিক্রম করে। একই সময়ে প্রযুক্তি খাতের প্রাধান্য থাকা 'নাসডাক কম্পোজিট' সূচকটি ০.৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে, যা সামগ্রিক বাজারে এআই প্রযুক্তির শক্তিশালী আধিপত্য প্রমাণ করে।
মেটা ব্যতীত 'ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন' নামে পরিচিত খ্যাত শীর্ষ সাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিটির শেয়ারের দামই এদিন বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে ১.৯৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে শীর্ষস্থানে ছিল ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন। এছাড়া মাইক্রোসফটের ০.৭৮ শতাংশ, টেসলার ০.৫১ শতাংশ, অ্যাপলের ০.২২ শতাংশ এবং এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম ০.১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে গত মাসে নতুন এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট 'মিউজ' চালুর পর ২০ শতাংশের বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া মেটার শেয়ার এদিন ০.৪১ শতাংশ কমেছে। খাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মার্ভেল টেকনোলজির ৫.৮১ শতাংশ এবং সিসকোর শেয়ারের দাম ৪.৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
জর্জিয়ার আটলান্টাভিত্তিক ট্রুইস্ট অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেসের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা কিথ লার্নার বর্তমান বাজার পরিস্থিতিকে এআইয়ের অভূতপূর্ব জোয়ার হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধজনিত জ্বালানি সংকট, ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণ এবং বন্ড বিক্রির বহুমুখী চাপ সত্ত্বেও বাজারটি দারুণ স্থিতিশীল রয়েছে। মরনিংস্টার অস্ট্রেলিয়ার সিনিয়র ইকুইটি স্ট্র্যাটেজিস্ট লকলাান হলোওয়ে জানান, ডেটা সেন্টারে বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে ভালো মুনাফার আশায় বিনিয়োগকারীরা চড়া সুদের হার ও তেলের দামের মধ্যেও এআই খাতের ওপর আস্থা বজায় রেখেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, কর্পোরেট মুনাফা বৃদ্ধি এবং ঐতিহাসিক ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকতে পারে। তবে মার্কিন বাজারের এই উত্থানের বিপরীতে এশিয়ার বাজারে পতন দেখা গেছে এবং ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ব্যারেল প্রতি ১০১.৪৫ ডলারে পৌঁছেছে। অল্প কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রযুক্তি কোম্পানির ওপর বাজারের অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং সুদের হার বৃদ্ধিকে ভবিষ্যতের বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার খবর সংযোগ-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।