ভারতের উত্তর প্রদেশের মৌ জেলায় ২০১৬ সালের হত্যা মামলার বিচার ও অর্থ আত্মসাতের দায় এড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে নিজের মৃত্যুর ভুয়া নাটক সাজানো রাজকুমার রাজভরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ৩০ বছর বয়সি রাজকুমার ছাগল পুড়িয়ে এবং এআই দিয়ে ভুয়া অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ছবি তৈরি করে মৃত্যুসনদ সংগ্রহ করেছিলেন। প্রায় দেড় বছর পলাতক থাকার পর রবিবার তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ২০১৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর মুনশিপুরা রেললাইনের কাছে যোগেশ সিং হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন ৩৮ বছর বয়সি রাজকুমার রাজভর, যিনি জামিনে থাকার পর বিচার এড়াতে পলাতক হন।
- ২০২৫ সালের ৩০ মে নিজের মৃত্যুর নাটক সাজাতে রাজকুমার ছাগল পুড়িয়ে শ্মশানে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ভুয়া ছবি তৈরি করেন এবং এআইয়ের সাহায্যে মরদেহের মুখে নিজের মুখাবয়ব বসিয়ে মৌ পৌরসভা থেকে ভুয়া মৃত্যুসনদ সংগ্রহ করেন।
- রবিবার সকাল ৯টার দিকে উত্তর প্রদেশের মৌ জেলার খাজাজাহানপুর এলাকা থেকে কোতোয়ালি নগর পুলিশ, এসওজি ও নজরদারি দলের যৌথ অভিযানে রাজকুমারকে গ্রেফতার করা হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভারতের উত্তর প্রদেশে হত্যা মামলার বিচার এবং ঋণগ্রস্ততা থেকে বাঁচার এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা উন্মোচন করেছে পুলিশ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সাহায্যে নিজের মৃত্যুর ভুয়া প্রমাণ তৈরি করে দীর্ঘ দেড় বছর আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলা রাজকুমার রাজভর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন। রবিবার সকালে উত্তর প্রদেশের মৌ জেলার খাজাজাহানপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের কথা বলে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের পর তা আত্মসাৎ করেছিলেন তিনি। এই আর্থিক দায় এবং পুরোনো হত্যা মামলার হাত থেকে বাঁচতেই তিনি নিজেকে 'মৃত' ঘোষণা করার পরিকল্পনা করেন।
২০১৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর মুনশিপুরা রেললাইনের কাছে গুলি করে হত্যা করা হয় যোগেশ সিং নামের এক ব্যক্তিকে। ওই ঘটনায় নিহতের ভাতিজা অবিনাশ সিংয়ের দায়ের করা হত্যা মামলায় রাজকুমার ও তার বন্ধু সুদর্শন রাজভরকে আসামি করা হয়। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর বিচারিক প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত ও পণ্ড করতে রাজকুমার এক জঘন্য পরিকল্পনা আঁটেন। ২০২৫ সালের ৩০ মে গাজীপুরে নিজের মৃত্যুর সাজানো নাটক শুরু করেন তিনি। একটি মৃতদেহের পরিবর্তে চিতায় ছাগল পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং সেই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ছবিতে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে রাজকুমারের মুখ বসিয়ে ভুয়া ডিজিটাল প্রমাণাদি তৈরি করা হয়।
তৈরি করা এসব ভুয়া ছবি ও নথির ওপর ভিত্তি করে মৌ পৌরসভা থেকে একটি মৃত্যুসনদও সংগ্রহ করেন তিনি। আদালতের নথিতে সেই মৃত্যুসনদ জমা দিয়ে তিনি নিজেকে আইনগতভাবে মৃত প্রমাণ করতে সক্ষম হন, যার ফলে প্রায় দেড় বছর ধরে পুলিশের গ্রেফতারি পরোয়ানা এড়িয়ে চলতে পেরেছিলেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনুপ কুমার জানান, দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা রাজকুমার শেয়ারবাজারের লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং লোকসানের কারণে বিপুল পরিমাণ দেনার দায়ে জর্জরিত ছিলেন। এই হত্যা মামলার বিচার এড়ানোর পাশাপাশি পাওনাদারদের চাপ এড়াতেই তিনি এই জালিয়াতির পথ বেছে নেন।
পুলিশের স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ (এসওজি) এবং নজরদারি দলের যৌথ অভিযানে অবশেষে তার এই ডিজিটাল প্রতারণার রহস্যভেদ হয়। মৃত ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় ধরা পড়ার পর এখন তার বিরুদ্ধে পূর্বের হত্যা মামলার পাশাপাশি নতুন করে জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে কঠোর বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এই ঘটনা অপরাধজগতে প্রযুক্তি ও এআইয়ের অপব্যবহারের এক নতুন ও উদ্বেগজনক দিক উন্মোচন করেছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।