রবিবার গভীর রাতে ৫.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল আফগানিস্তান, জম্মু-কাশ্মীর, দিল্লি ও পঞ্জাব। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানায়, ২৫ অক্টোবর রাত ১১টা ১৪ মিনিটে হিন্দুকুশ পর্বতমালায় এই কম্পন অনুভূত হয়। ভারত ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট এই কম্পনে তাৎক্ষণিকভাবে জম্মু-কাশ্মীরে কোনো প্রাণহানির খবর মেলেনি, তবে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS)-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় সময় রবিবার ২৫ অক্টোবর রাত ১১টা ১৪ মিনিট ২২ সেকেন্ডে ৫.৫ মাত্রার এই ভূমিকম্প আঘাত হানে।
- ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পর্বতমালা, যার কম্পন জম্মু-কাশ্মীর ছাড়াও ভারতের দিল্লি, পঞ্জাব, পাকিস্তান এবং তাজিকিস্তানে অনুভূত হয়।
- ভূতাত্ত্বিকদের মতে, ভারতীয় প্লেট ক্রমাগত উত্তর দিকে এগিয়ে ইউরেশীয় প্লেটের সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার ফলে ভূগর্ভে বিপুল চাপ তৈরি হয়ে এই ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রবিবার গভীর রাতে আকস্মিক ভূমিকম্পের বড় ধাক্কায় কেঁপে উঠল ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরসহ একাধিক এলাকার মাটি। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় সময় রবিবার রাত ১১টা ১৪ মিনিট ২২ সেকেন্ডে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৫। এর অভিঘাত সরাসরি গিয়ে পড়ে ভারতের জম্মু-কাশ্মীর ও সংলগ্ন অঞ্চলে। এছাড়া রাজধানী দিল্লি, পঞ্জাব, পাকিস্তান এবং তাজিকিস্তানের বিভিন্ন এলাকাতেও এই কম্পন টের পাওয়া গেছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, জম্মু-কাশ্মীরে এই ভূমিকম্পের জেরে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় ধরনের প্রাণহানি বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। হিন্দুকুশ পর্বতমালা অঞ্চলটি বিশ্বের অন্যতম অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এর আগে এই অঞ্চলেই একাধিক বিধ্বংসী ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে, যা ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষতি ডেকে এনেছিল।
ভূতাত্ত্বিক ও সিসমোলজি বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগানিস্তান ও হিন্দুকুশ সংলগ্ন অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত জটিল। ভারতীয় এবং ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের পারস্পরিক গতির সংঘর্ষের ফলেই মূলত এখানে প্রায়শই ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। ভারতীয় প্লেটটি ক্রমাগত উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে ইউরেশীয় প্লেটের নিচে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করায় ভূগর্ভে বিপুল শক্তির চাপ তৈরি হয়। এই চাপের আকস্মিক মুক্তি শিলাস্তরে বড় ধরনের ভাঙন ধরিয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পের রূপ নেয়।
এই অঞ্চলে প্রায়শই অগভীর ও গভীর—উভয় প্রকারের ভূকম্পনই লক্ষ্য করা যায়, যার তরঙ্গ বহুদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে কম্পন অনুভূত করায়। দুর্বল অবকাঠামোগত নির্মাণ এবং দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে হিন্দুকুশ অঞ্চলের এই ধরনের ভূমিকম্প প্রায় সময়ই মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে এই অঞ্চলে ভূমিকম্প সহনশীল আধুনিক নির্মাণ কৌশল অবলম্বন করার তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।