২০২৪ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বিশেষ পরীক্ষা আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে। এই পরীক্ষার অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া আগামীকাল থেকে শুরু হয়ে চলবে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অকৃতকার্য ও মানোন্নয়ন প্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ফি প্রদান করে এই সুযোগ পাবেন, যা তাদের উচ্চশিক্ষায় সেশনজট এড়াতে সহায়তা করবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া এই বিশেষ পরীক্ষায় কেবল সেই শিক্ষার্থীরাই অংশ নিতে পারবেন যারা সর্বোচ্চ দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন অথবা ফলাফল উন্নয়নের (মানোন্নয়ন) আবেদন করেছেন।
- পরীক্ষার ফরম পূরণ প্রক্রিয়া আগামীকাল থেকে অনলাইনে শুরু হবে; প্রতি পত্রের জন্য নির্ধারিত বোর্ড ফি এবং কেন্দ্র ফি মিলিয়ে নির্দিষ্ট অংকের অর্থ সোনালী সেবা বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।
- আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী, পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশের পর যারা নতুন করে যোগ্য বিবেচিত হবেন, তারাও এই বিশেষ পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
২০২৪ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে যারা সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন, তাদের জন্য বিশেষ পরীক্ষা আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এক জরুরি সভায় এই সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীরা তাদের অকৃতকার্য হওয়া বিষয়গুলোতে পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে চলতি শিক্ষাবর্ষেই উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ পাবেন, যা তাদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করবে এবং সেশনজট থেকে রক্ষা করবে।
সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলোর তথ্যমতে, এই বিশেষ পরীক্ষার ফরম পূরণ প্রক্রিয়া আগামীকাল থেকে শুরু হবে। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন। বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি পত্রের ফি আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ব্যবহারিক পরীক্ষা আছে এমন বিষয়গুলোর জন্য অতিরিক্ত ফি প্রদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে যারা আশানুরূপ ফল পাননি বা এক-দুই বিষয়ে ফেল করেছেন, তাদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা বিরাজ করছিল। শিক্ষা বোর্ডগুলোর এই দ্রুত সিদ্ধান্তের ফলে কয়েক লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন থেকে একটি বছর নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। বোর্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরীক্ষার কেন্দ্র তালিকা এবং বিস্তারিত বিষয়ভিত্তিক সময়সূচি খুব শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলোর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে, যারা ফলাফলের পুনর্নিরীক্ষণের (খাতা চ্যালেঞ্জ) আবেদন করেছেন, তাদের ফলাফলও দ্রুততম সময়ে প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। পুনর্নিরীক্ষণে যদি কোনো শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য বিষয়ের সংখ্যা দুই বা তার নিচে নেমে আসে, তবে তারাও এই বিশেষ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। এই উদ্যোগটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় গতিশীলতা আনতে এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ লাঘবে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।