এক দশক পর মিশর সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট সি, আবদেল ফাত্তাহ’র সঙ্গে বৈঠক আজ | জাতীয় | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)
৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"দীর্ঘ এক দশক পর চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং মিশর সফরে গেছেন। কায়রোতে তিনি মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করছেন। ইরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের কারণে মিশরের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকির মাঝেই এই সফরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সফরে দুই দেশের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবহন ও জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক চুক্তি এবং চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হবে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ঐতিহাসিক সফর: দীর্ঘ ১০ বছর পর চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং মিশর সফর করছেন এবং প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে বৈঠক করছেন।
- ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: ইরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের কারণে মিশরের একটি ব্যাংকের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পদক্ষেপ ও হুমকির মধ্যেই এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে মিশর তার 'স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি' ও কৌশলগত অবস্থান তুলে ধরতে চাইছে।
- অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব ও বিনিয়োগ: সফরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), পরিবহন ও জ্বালানি খাতে বেশ কিছু চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া সুয়েজ খাল অর্থনৈতিক অঞ্চল ও নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে চীনা বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর বিষয়ে জোর দেওয়া হবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ইরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের কারণে মিশরের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কার মধ্যেই দীর্ঘ এক দশক পর কায়রো সফরে গেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যায় তিনি দুই দিনের এই সফরে কায়রো পৌঁছান। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন চীনের ফার্স্ট লেডি পেং লিয়ুয়ান। কায়রো বিমানবন্দরে তাঁদের স্বাগত জানান মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি এবং ফার্স্ট লেডি এন্তেসার আমের।
বুধবার দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে ব্রিকসের দুই সদস্য মিশর ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। চুক্তির ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), পরিবহন ও জ্বালানি খাত অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি, বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের বৈশ্বিক প্রভাব নিয়েও তাঁরা আলোচনা করবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সি চিনপিংয়ের এই সফরের মাধ্যমে কায়রো বিশ্বমঞ্চে তার কৌশলগত স্বাধীনতার বার্তা দিতে চাইছে। মিশর দেখাতে চায় যে, ওয়াশিংটন এবং বেইজিং—উভয় পরাশক্তির সঙ্গেই তারা নিজেদের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম। উল্লেখ্য, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানকে সহায়তার অভিযোগে ‘ব্যাংক মিশর’-এর সংযুক্ত আরব আমিরাত শাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এমন একটি উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীনের সঙ্গে মিশরের এই ঘনিষ্ঠতা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
মিশরের বর্তমান অবকাঠামো উন্নয়নে চীন অন্যতম বড় অংশীদার। প্রেসিডেন্ট সিসির শাসনামলে নেওয়া বিশাল উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে চীনের বিপুল অর্থায়ন রয়েছে। বিশেষ করে, কায়রো থেকে ৫০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত নতুন প্রশাসনিক রাজধানীর 'ফাইন্যান্স অ্যান্ড বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট' এবং সুয়েজ খাল অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীন ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করেছে। চলমান বৈশ্বিক সমুদ্রবাণিজ্য হুমকির মুখে থাকায় এই অঞ্চলে চীনা বিনিয়োগ আরও কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়েও দুই দেশের নেতারা আলোচনা করবেন। চীনের শুল্ক বিভাগের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসেই মিসরের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ বিলিয়ন ডলার। এই সফর মিশর ও চীনের মধ্যকার কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার Bangladesh Sangbad Sangstha (BSS)-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।