নতুন নীতিমালা অনুযায়ী দেশের সিটি করপোরেশনগুলোতে এক এনআইডির বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার নিবন্ধন নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। আগ্রহী মালিকদের নির্দিষ্ট ফি দিয়ে নির্ধারিত ফরমে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করতে হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে বুয়েটের মানদণ্ড ও ফিটনেস সনদ অর্জন এবং গাড়িতে কিউআর কোডযুক্ত নম্বর প্লেট প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- একজন ব্যক্তি একটি বা একাধিক সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা বা অটোরিকশার নিবন্ধন গ্রহণ করতে পারবেন।
- নিবন্ধনের জন্য সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নির্ধারিত ফরমে আবেদন জমা দিতে হবে এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুযায়ী যানবাহনের ফিটনেস সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক।
- নিবন্ধিত অটোরিকশার দৃশ্যমান স্থানে বাধ্যতামূলকভাবে কিউআর কোড সম্বলিত নম্বর প্লেট প্রদর্শন করতে হবে এবং আবেদন বাতিল হলে ৭ দিনের মধ্যে কারণ জানিয়ে আপিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ই-রিকশা চলাচলের শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন প্রজ্ঞাপন ও নীতিমালা জারি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নতুন এই নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে দেশের যেকোনো সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে একজন নাগরিক তার একক জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডির বিপরীতে সর্বমোট পাঁচটি অটোরিকশার নিবন্ধন বা লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এই উদ্যোগের ফলে নগর 교통ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিবন্ধন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আগ্রহী মালিকদের সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় বরাবর নির্ধারিত আবেদন ফরম সংগ্রহ করে তা যথাযথ তথ্যসহ জমা দিতে হবে। তবে যত্রতত্র নিবন্ধন দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি। যানবাহনের আধুনিক নিরাপত্তা ও মান নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড পূরণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ কোনো বাহন ফিটনেস সনদ বা নিবন্ধন পাবে না।
নিবন্ধন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতে প্রতিটি অনুমোদিত অটোরিকশার দৃশ্যমান স্থানে কিউআর কোড সংবলিত বিশেষ নম্বর প্লেট প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যেকোনো সময় বাহনটির বৈধতা যাচাই করা সম্ভব হবে। যদি কোনো কারণে আবেদন বাতিল করা হয়, তবে তা বাতিলের সাত কার্যদিবসের মধ্যে মালিককে লিখিতভাবে কারণ জানানো হবে এবং নির্ধারিত আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে, যেখানে আপিল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সুনির্দিষ্ট এই নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়ন ঘটলে শহরাঞ্চলের ব্যাটারিচালিত রিকশার নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে এবং চালক ও যাত্রীদের যাতায়াত আরও নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল হয়ে উঠবে। একইসঙ্গে অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন বাহনগুলোর দৌরাত্ম্য কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।