৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"টানা তিন মাস বৃদ্ধির ধারায় চলতি অক্টোবরে জেট ফুয়েলের দাম ১০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রতি লিটার অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য ১৮২.৭১ টাকা এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য ১.১৯ ডলার নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। গত জুলাইয়ে দাম ১৩০.৯৯ টাকায় নামলেও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাবে তিন মাসে তা ৩৯.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিমান সংস্থাগুলোর ওপর বাড়তি পরিচালন ব্যয়ের চাপ তৈরি করেছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ঘোষিত সর্বশেষ মূল্য অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য জেট এ-১ জ্বালানির দাম প্রতি লিটারে ১৮২.৭১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত সেপ্টেম্বরে ছিল ১৬৫.৬৫ টাকা।
- আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের দাম গত মাসের ১.০৭ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি লিটারে প্রায় ১.১৯ ডলারে উন্নীত হয়েছে।
- চলতি বছরের জুলাই মাসে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১৩০.৯৯ টাকায় নেমে আসার পর গত তিন মাসে তা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে মোট ৩৯.৫ শতাংশ বেড়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
টানা তিন মাস ধরে বেড়েই চলেছে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের দাম। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নতুন করে জেট ফুয়েলের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে, যার ফলে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিভিন্ন এয়ারলাইন্স কোম্পানির ওপর আর্থিক চাপ আরও তীব্র হয়েছে। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য জেট এ-১ জ্বালানির দাম প্রতি লিটারে ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের মাসে ১৬৫ টাকা ৬৫ পয়সা ছিল। এছাড়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে জ্বালানির দাম প্রতি লিটারে ১.০৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১.১৯ ডলার করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মূলত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটের বড় ভূমিকা রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দফায় দফায় বাড়তে থাকে। এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। চলতি বছরের এপ্রিলে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের দাম সর্বোচ্চ ২২৭ টাকা ০৮ পয়সা এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য ১.৪৮ ডলারে উঠেছিল। যদিও পরবর্তী সময়ে জুলাই পর্যন্ত দাম কিছুটা কমে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ১৩০ টাকা ৯৯ পয়সায় নেমে আসে, তবে আগস্ট থেকে তা আবার ঊর্ধ্বমুখী হয় এবং তিন মাসের ব্যবধানে সামগ্রिकভাবে ফুয়েলের দাম প্রায় ৩৯.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
এয়ারলাইনস খাতের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাণিজ্যিক বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে মোট ব্যয়ের একটি বড় অংশ ব্যয় হয় জেট ফুয়েল ক্রয়ে। ফলে জ্বালানির এই লাগামহীন দাম বৃদ্ধিতে এয়ারলাইনসগুলোর পরিচালনা ব্যয় মারাত্মকভাবে বেড়ে যাচ্ছে, যা তাদের মুনাফাকে সংকুচিত করছে। বিশেষ করে যেসব রুটে টিকিটের দাম বাড়ানোর সুযোগ সীমিত, সেখানে বিমান সংস্থাগুলোকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যপতন, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এবং পরিবহন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিইআরসি সাধারণত এই মূল্য সমন্বয় করে থাকে, যেখানে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড একচেটিয়াভাবে এই জ্বালানি সরবরাহ করে আসছে।
জেট ফুয়েলের এই লাগাতার দাম বৃদ্ধি কেবল বিমান সংস্থাগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রমকেই ব্যাহত করছে না, বরং এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবে যাত্রী সাধারণের ওপরও টিকিটের মূল্য বৃদ্ধির চাপ তৈরি হতে পারে। বিমান পরিবহন খাতকে স্থিতিশীল রাখতে এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী সাধারণের যাতায়াত সুগম রাখতে জ্বালানি মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। অন্যথায় দেশের এভিয়েশন শিল্পে বড় ধরনের মন্দা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার দ্য ডেইলি স্টার বাংলা-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।