৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"রাজধানীতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ই-বাইক নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মোট আটটি জোন করে ভিন্ন রঙের অটোরিকশা চলাচলের নীতিমালা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এর ফলে এক জোনের রিকশা অন্য জোনে যেতে পারবে না এবং নির্দিষ্ট সংখ্যা বেঁধে দেওয়া হবে। চালকদের বিক্ষোভের মুখে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে চারটি করে মোট আটটি জোনে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার জন্য আলাদা রং নির্ধারণ করা হবে এবং এক জোনের অটোরিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না।
- ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, নির্ধারিত সংখ্যার বাইরে নতুন করে কোনো অটোরিকশা নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে না এবং অবৈধ কারখানা ও চার্জিং পয়েন্টগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
- বর্তমানে রাজধানীতে বিআরটিএ বা সিটি করপোরেশনের হিসাবে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ অটোরিকশার কথা বলা হলেও বাস্তবে এই সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি রয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানীতে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়ে চলা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ই-বাইকের চলাচল শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় চারটি করে মোট আটটি জোনে ভাগ করে এসব যানের জন্য আলাদা রঙের কোড নির্ধারণ করা হচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, সরকার এই যানবাহনগুলোর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও বিধিমালা তৈরি করছে, যার আওতায় প্রতিটি জোনের রিকশার জন্য নির্দিষ্ট রং থাকবে এবং এক জোনের যান অন্য জোনে প্রবেশ করতে পারবে না।
অতীতের বিভিন্ন সময়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। ২০২৪ সালের মে মাসে তৎকালীন সরকারের সময় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও নিম্নআয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করে ঢাকায় অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকেই রাজধানীর অলিগলি থেকে শুরু করে মূল সড়ক পর্যন্ত লাখ লাখ অটোরিকশার অবাধ চলাচল শুরু হয়। এর ফলে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে যানজট, দুর্ঘটনা ও অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার। সম্প্রতি সরকার এই যানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় এবং ব্যাটারি চার্জিং সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক আটকে বিক্ষোভ করেন চালক ও মালিকরা।
কর্তৃপক্ষের দাবি, সাম্প্রতিক এসব আন্দোলনে সাধারণ চালকদের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের চিহ্নিত অনেক নেতাকর্মীও জড়িত ছিলেন, যাদের উদ্দেশ্য ছিল সরকারকে বিব্রত করা। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এবং ডিএনসিসি প্রশাসক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এ ধরনের লাগামহীন যান চলাচল কোনোভাবেই চলতে দেওয়া হবে না। নতুন নীতিমালায় প্রতিটি জোনে অটোরিকশার সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে এবং নির্ধারিত কোটার বাইরে নতুন কোনো রিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে না।
নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এই জোনভিত্তিক রঙ নির্ধারণ এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ। তবে এর প্রকৃত সাফল্য সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে মাঠপর্যায়ে কঠোর বাস্তবায়নের ওপর। অতীতে নীতিমালা প্রণীত হলেও যথাযথ তদারকির অভাবে তা ব্যর্থ হয়েছিল। তাই সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিরাপদ করতে এবং সড়কে বিশৃঙ্খলা রোধে এই পরিকল্পনা কঠোরভাবে কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার বিবিসি বাংলা-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।