বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) উদ্যোগে আয়োজিত সাম্প্রতিক গণশুনানিতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) কমিশন বর্তমানের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বাড়ানোর জোরালো দাবি জানিয়েছেন ডিলার ও ব্যবসায়ীরা। তবে ক্যাবের পক্ষ থেকে দাম ও চার্জ না বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। বিইআরসি সব পক্ষের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সিলিন্ডারের নতুন মূল্য নির্ধারণ করবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) আয়োজিত গণশুনানিতে এলপিজি ব্যবসায়ীরা বর্তমান কমিশন প্রায় তিন গুণ বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন।
- ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব (কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ এড়াতে এলপিজির দাম ও চার্জ না বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে।
- ব্যবসায়ীদের কমিশন বৃদ্ধি এবং ক্যাবের বিরোধিতার প্রেক্ষিতে বিইআরসি সব পক্ষের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সিলিন্ডারের নতুন দাম ও কমিশন হার নির্ধারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) খাতের ব্যবসা পরিচালনা ও বিপণন ব্যয় বাড়ার অজুহাতে বর্তমান কমিশন প্রায় তিন গুণ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ গণশুনানিতে এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, যা দেশের জ্বালানি বাজারে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী কমিশন বাড়ানো হলে সিলিন্ডার প্রতি চূড়ান্ত খুচরা মূল্যের ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়বে।
আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশে প্রতি মাসেই এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসি। তবে বিগত বেশ কিছুদিন ধরে ডিলার, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারা তাদের কমিশন বাড়ানোর জোরালো দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বর্তমান বাজার ব্যবস্থায় পরিবহন খরচ, গুদামজাতকরণ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তারা এই নতুন ফর্দ বা প্রস্তাব পেশ করেন।
অন্যদিকে, এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। ক্যাবের প্রতিনিধিরা শুনানিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এমনিতেই উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ ভোক্তারা জর্জরিত, এমন সময়ে এলপিজির কমিশন বা দাম বাড়ানো হলে তা জনজীবনে চরম দুর্ভোগ ডেকে আনবে। তারা বরং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো এবং সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার ওপর জোর দেন।
বিইআরসি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের যুক্তি, হিসাব-নিকাশ এবং আন্তর্জাতিক এলপিজি আমদানির খরচ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যবসায়ীদের লাভজনক ও টিকিয়ে রাখার বিষয়টি যেমন দেখা হচ্ছে, তেমনি সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করাও তাদের প্রধান দায়িত্ব। খুব শীঘ্রই এই গণশুনানির ওপর ভিত্তি করে এলপিজির নতুন কমিশন এবং সমন্বিত দাম ঘোষণা করা হতে পারে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।