এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি অপারেটরের সঙ্গে ১৫ বছরের খসড়া চুক্তি অনুমোদন
৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার জন্য ১৫ বছরের খসড়া কনসেশন চুক্তি অনুমোদন করেছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপিত এই প্রস্তাবে ওভারফ্লো ইয়ার্ডও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে শ্রমিক সংগঠন ও বিভিন্ন মহল দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ঝুঁকি ও রাজস্ব হ্রাসের আশঙ্কা প্রকাশ করে এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনার জন্য ১৫ বছরের খসড়া কনসেশন চুক্তি অনুমোদন করেছে, যার আওতায় ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ডও (ওসিওয়াই) যুক্ত থাকবে।
- ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এনসিটি প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব এবং আড়াই হাজার কোটি টাকা নিট আয় অর্জন করেছে, যা বন্দরের মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের ৪০ শতাংশের বেশি।
- ডিপি ওয়ার্ল্ডের মতো বহুজাতিক অপারেটরকে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনার প্রতিবাদ জানিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ চাকরি হারানোর আশঙ্কা ও রাজস্ব হ্রাসের কথা উল্লেখ করে চুক্তি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপিত ১৫ বছরের খসড়া কনসেশন চুক্তি অনুমোদন করেছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এই চুক্তির আওতায় এনসিটির ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ডও (ওসিওয়াই) অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে এই অনুমোদনে নির্দিষ্ট কোনো বিদেশি অপারেটরের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
২০০৭ সালে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এনসিটিতে মোট পাঁচটি জেটি রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই এই টার্মিনালে অবস্থিত। বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড টার্মিনালটি পরিচালনা করছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরের মোট ৩৫ লাখ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের বড় একটি অংশ এই টার্মিনালের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছে।
টার্মিনালটি বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক শ্রমিকদের সংগঠন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদসহ বিভিন্ন মহল। সংগঠনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ডিপি ওয়ার্ল্ডের মতো বহুজাতিক কোম্পানিকে দায়িত্ব দিলে দীর্ঘমেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রার বহিঃপ্রবাহ বাড়বে এবং দেশীয় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে। তাদের দাবি, এনসিটি থেকে বছরে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব এবং আড়াই হাজার কোটি টাকা নিট আয় সরকারের কোষাগারে জমা হয়।
বিদেশি অপারেটর নিয়োগের এই প্রক্রিয়া ২০১৯ সালে শুরু হয়েছিল এবং ২০২৩ সালের মার্চে পিপিপি মডেলে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমান সরকারের এই পদক্ষেপে বন্দর খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হলেও কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বন্দর ব্যবহারকারী ও শ্রমিকদের উদ্বেগ নিরসনে এই খসড়া চুক্তি নিয়ে আরও চুলচেরা বিশ্লেষণের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার bangla.thedailystar.net-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।