লাইভ
তাৎক্ষণিক ৬০ শব্দের সংবাদ ও ২৪/৭ লাইভ টিভি স্ট্রিমিং
অ্যাপ ইনস্টল
06:45 সকাল, 26 আগস্ট 2026 1 মিনিট পাঠ 52 বার পঠিত

ফাইভ-জির পূর্ণ সক্ষমতায় শক্তিশালী ফাইবার নেটওয়ার্ক জরুরি, কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা

মূল তথ্যসূত্র: NTV BD
বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম দ্বারা সংকলিত
ফাইভ-জির পূর্ণ সক্ষমতায় শক্তিশালী ফাইবার নেটওয়ার্ক জরুরি, কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা
৬০ শব্দের তাৎক্ষণিক সারসংক্ষেপ (Quick Summary)
AI সংক্ষেপ

শহরের কোলাহল থেকে দূরে নিভৃত পরিবেশ। প্রকৃতির শান্ত আবহের মধ্যেই এক হলরুমে জমে উঠেছিল বাংলাদেশের টেলিকম ও খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে কর্মশালা।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • শহরের কোলাহল থেকে দূরে নিভৃত পরিবেশ।
  • তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে অন্য দেশে ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করলে দেশের ইন্টারনেট ধীরগতির হয়ে যায়-এমন ধারণার বাস্তব ভিত্তি নেই।
  • আর সেই শক্তিশালী ফাইবারভিত্তিক অবকাঠামোর ওপর দাঁড়িয়েই গড়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের আগামী দিনের ফাইভ-জি, স্মার্ট সেবা, ডিজিটাল শিক্ষা এবং নির্ভর র ভিত।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

ভিডিও নজরদারি করতে পারবেন অভিভাবকরা অফ-রোড থেকে হাইওয়ে, এক্সপালস ২০০-এর সক্ষমতা যাচাইয়ে মিডিয়া টেস্ট রাইড এএমডি-ইনটেলকে দেশে আনতে প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ ও সঠিক নীতি: এনায়েতুর রহমান চীনের রোবট গেমসে হিউম্যানয়েড র নতুন চমক বাংলাদেশের চার তরুণ প্রকৌশলী পেলেন ‘হোন্ডা ওয়াই-ই-এস অ্যাওয়ার্ড’ ফাইভ-জির পূর্ণ সক্ষমতায় শক্তিশালী ফাইবার নেটওয়ার্ক জরুরি, কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা শাহজালাল রোহান ১২:৪৫, ২৬ আগস্ট ২০২৬ , ২৬ আগস্ট ২০২৬ । শহরের কোলাহল থেকে দূরে নিভৃত পরিবেশ। প্রকৃতির শান্ত আবহের মধ্যেই এক হলরুমে জমে উঠেছিল বাংলাদেশের টেলিকম ও খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে কর্মশালা। আলোচনায় ছিলেন টেলিকম ও খাতের সাংবাদিক, বিশেষজ্ঞ এবং ব্রডব্যান্ড শিল্পের প্রতিনিধিরা।

সম্প্রতি গাজীপুরের ছুটি রিসোর্টে টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজন করে দিনব্যাপী কর্মশালা-‘ফিক্সড ব্রডব্যান্ড: ফিউচার অব বাংলাদেশ’। কর্মশালায় উঠে আসে দুই দশকের পুরোনো নীতিমালা সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা, ফাইবার অবকাঠামো সুরক্ষা, স্থানীয় বিনিয়োগের নিরাপত্তা, ইন্টারনেটের গতি ও দাম এবং দেশের ব্রডব্যান্ড শিল্পের ভবিষ্যৎ রূপরেখা।

আলোচনার মূল বার্তা ছিল স্পষ্ট-শক্তিশালী ফাইবার নেটওয়ার্ক ছাড়া ফাইভ-জির পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব নয়। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি ঘরে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে হলে বিচ্ছিন্ন অবকাঠামোর পরিবর্তে সমন্বিত ও শেয়ারড ফাইবার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে।

দেশে ফাইভ-জি র সফল প্রয়োগ এবং সবার জন্য মানসম্মত ব্রডব্যান্ড নিশ্চিত করতে শক্তিশালী অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্কের ওপর গুরুত্ব দেন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় তথ্য ও নেটওয়ার্ক বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির।

তিনি বলেন, ফাইভ-জি টাওয়ারের পূর্ণ সক্ষমতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি টাওয়ার পর্যন্ত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ প্রয়োজন। ফাইবার নেটওয়ার্ক শক্তিশালী না হলে ফাইভ-জির শতভাগ সুবিধা কিংবা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া সম্ভব নয়। তার মতে, শুধু বাসাবাড়ি নয়, মোবাইল নেটওয়ার্কের অবকাঠামো পর্যন্ত শক্তিশালী ফাইবার সংযোগ পৌঁছাতে হবে। কারণ ভবিষ্যতের যোগাযোগব্যবস্থা ক্রমেই আরও বেশি ডেটানির্ভর হয়ে উঠছে।

একই এলাকায় একাধিক ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের আলাদা আলাদা ফাইবার বসানোর বর্তমান বাস্তবতাকেও প্রশ্নের মুখে আনেন সুমন সাবির। তিনি বলেন, কোনো এলাকায় ১০টি আইএসপি আলাদাভাবে ১০টি ফাইবার লাইন বসালে সেটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যয়বহুল হওয়ার পাশাপাশি কারিগরিভাবেও অদক্ষ ব্যবস্থা তৈরি করে। এতে একই রাস্তা বারবার খোঁড়াখুঁড়ি করতে হয়, অবকাঠামোর অপচয় হয় এবং শেষ পর্যন্ত ব্যয় বাড়ে। এর পরিবর্তে একটি কমন বা শেয়ারড অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক তৈরি করে বিভিন্ন আইএসপি ও মোবাইল অপারেটরের মধ্যে তা ভাগাভাগি করার পরামর্শ দেন তিনি।

তার ভাষ্য, শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত দেশের প্রতিটি বাসাবাড়িতে আন্ডারগ্রাউন্ড ফাইবার পৌঁছে দেওয়া কোনো একক ছোট আইএসপির পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সর্বজনীন ব্রডব্যান্ড নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বা সমন্বিত অবকাঠামো এখন সময়ের দাবি।

আলোচনায় শুধু ইন্টারনেট সংযোগ নয়, ফাইবারনির্ভর ডিজিটাল সেবার কথাও উঠে আসে। বিশেষ করে খাতে ইন্টারনেটকেন্দ্রিক বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা বলেন সুমন সাবির। তার মতে, শুধু ফাইবার অবকাঠামো থাকলেই ডিজিটাল বিপ্লব সম্পূর্ণ হবে না। এর সঙ্গে প্রয়োজন দেশীয় সফটওয়্যার, অ্যাপ্লিকেশন এবং ব্যবহার উপযোগী ডিজিটাল সেবা।

দেশীয় মেধা ও র সঠিক ব্যবহার করতে পারলে , শিক্ষা, ব্যবসা ও সরকারি সেবায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব বলেও মত দেন তিনি।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল ও আইটিসির মাধ্যমে পর্যাপ্ত ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা রয়েছে বলেও কর্মশালায় উল্লেখ করেন সুমন সাবির। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে অন্য দেশে ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করলে দেশের ইন্টারনেট ধীরগতির হয়ে যায়-এমন ধারণার বাস্তব ভিত্তি নেই। দেশের বিদ্যমান ও সম্প্রসারিত সক্ষমতার যথাযথ ব্যবহার এবং নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের নীতিমালায় দীর্ঘদিন পর বড় পরিবর্তন আসার বিষয়টিকে সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেন ফাইবার অ্যাট হোমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মইনুল সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ২০০৬ সালের আইএলডিটিএস নীতিমালার প্রায় দুই দশক পর নতুন টেলিযোগাযোগ নীতিমালা চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে নীতিমালা প্রণয়নে সরকারকে শিল্পের বাস্তবতা, বিভিন্ন অংশীজনের মতামত এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হয়।

তার মতে, আইটি ও টেলিকম খাতকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করে কার্যকর নীতিমালা তৈরি করা গেলে দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের গতি আরও বাড়ানো সম্ভব।

ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক সাধারণত ১৫ থেকে ২০ বছর কার্যকর থাকার কথা। কিন্তু বাংলাদেশে অবকাঠামো সুরক্ষায় এখনো প্রয়োজনীয় নীতি ও রেগুলেশনের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন মইনুল সিদ্দিকী। তিনি বলেন, পানি বা বিদ্যুতের মতো একই এলাকায় পরিকল্পিত একটি অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিবর্তে অবাধ প্রতিযোগিতার নামে একই জায়গায় বারবার নতুন নেটওয়ার্ক বসানো হচ্ছে। এতে ছোট ও বড়-উভয় ধরনের বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

তার মতে, কোন প্রতিষ্ঠান কী ধরনের নেটওয়ার্ক তৈরি করবে, কোথায় অবকাঠামো ভাগাভাগি করা হবে এবং কীভাবে বিনিয়োগ সুরক্ষিত থাকবে-এসব বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন।

বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি স্থানীয়দের সুযোগ

বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগকে স্বাগত জানালেও টেলিযোগাযোগ খাতের সবচেয়ে লাভজনক অংশ শুধু বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সীমিত রাখা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন মইনুল সিদ্দিকী। তার মতে, স্থানীয় ও দেশীয় কোম্পানিগুলোকেও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার লাভজনক খাতে কাজের সমান সুযোগ দিতে হবে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে এই খাতে দেশীয় উদ্যোক্তারাও বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও দক্ষতা তৈরি করেছেন।

কম দামে দ্রুতগতির ইন্টারনেটের কঠিন সমীকরণ

বাংলাদেশের ব্রডব্যান্ড শিল্পের অর্থনৈতিক বাস্তবতাও উঠে আসে কর্মশালায়। মইনুল সিদ্দিকী বলেন, উন্নত ের বিভিন্ন দেশে একজন ব্রডব্যান্ড গ্রাহক থেকে মাসে ৩০ থেকে ৫০ ডলার পর্যন্ত রাজস্ব পাওয়া যায়। সেখানে বাংলাদেশে তা মাত্র ৫ থেকে ১০ ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

এই সীমিত আয়ের মধ্যেই সেবাদাতাদের নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ এবং গ্রাহকদের উচ্চগতির ইন্টারনেট দিতে হচ্ছে। ২০ থেকে ২৫ এমবিপিএস গতির সংযোগ থেকে দেশের প্রতিটি ঘরে ১০০ এমবিপিএস বা তারও বেশি গতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য তাই শুধু গত নয়, বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জও বলে মনে করেন তিনি।

প্রকৃতির সবুজে ঘেরা ছুটি রিসোর্টের এই আয়োজন শেষ পর্যন্ত শুধু সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক কর্মশালায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। আলোচনায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের ব্রডব্যান্ড র বাস্তবতা, ফাইভ-জি যুগের প্রস্তুতি এবং আগামী দিনের ডিজিটাল অবকাঠামোর সম্ভাব্য রূপরেখা।

একদিকে শক্তিশালী ফাইবার নেটওয়ার্ক, অন্যদিকে শেয়ারড অবকাঠামো; একদিকে নতুন নীতিমালা, অন্যদিকে পুরোনো বিনিয়োগের সুরক্ষা-সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ফিক্সড ব্রডব্যান্ড খাত এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সামনে দাঁড়িয়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নীতিমালা, পরিকল্পিত অবকাঠামো এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে শহরের পাশাপাশি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। আর সেই শক্তিশালী ফাইবারভিত্তিক অবকাঠামোর ওপর দাঁড়িয়েই গড়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের আগামী দিনের ফাইভ-জি, স্মার্ট সেবা, ডিজিটাল শিক্ষা এবং নির্ভর র ভিত।

স্বত্বাধিকার ও উৎস বিবরণী

এই সংবাদের মূল তথ্য ও তথ্যের অধিকার NTV BD-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত উপলব্ধি ও সহজ পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সম্পাদকীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি সংকলন ও প্রস্তুত করেছে।

শেয়ার করুন: WhatsApp Facebook
স্মার্টফোন অ্যাপ সুবিধা

মোবাইল অ্যাপে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে খবর পড়ুন

স্মার্ট অডিও ন্যারেটর, ২৪/৭ লাইভ টিভি স্ট্রিমিং, অফলাইন মোড এবং দ্রুততম ব্রেকিং নিউজ নোটিফিকেশন পেতে ডাউনলোড করুন আমাদের ফ্রি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ।

ফ্রি অ্যাপ পান
দ্রুততম বাংলা ৬০ শব্দের নিউজ ও লাইভ টিভি অ্যাপ

সম্পূর্ণ খবর, লাইভ টিভি ও তাৎক্ষণিক ব্রেকিং আপডেট

প্রতিদিন মাত্র ২ মিনিটে দেশের সব খবর জানুন ৬০ শব্দের স্মার্ট কার্ডে। বিজ্ঞাপনমুক্ত ক্লিন রিডার, ভয়েস ন্যারেটর এবং ২৪/৭ লাইভ টিভি স্ট্রিমিং।