দেশের বিনোদন অঙ্গনের জনপ্রিয় নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার ১৬ বছরের দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, অস্ট্রেলিয়ায় কেনা একটি সম্পত্তি বিক্রি নিয়ে মতবিরোধের জেরে গত দেড় মাসের বেশি সময় ধরে তারা আলাদা থাকছেন। ২০১০ সালের ১৬ জুলাই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই দম্পতির সংসারে ইলহাম নুসরাত ফারুকী নামের এক কন্যাসন্তান রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার দীর্ঘ ২০ বছরের সম্পর্ক ও ১৬ বছরের দাম্পত্য জীবনে ভাঙনের গুঞ্জন শুরু হয়েছে এবং তারা গত দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে আলাদা বসবাস করছেন।
- অস্ট্রেলিয়ায় কেনা একটি বাড়ি বিক্রি করা নিয়ে দুজনের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ ও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে; যেখানে বাড়িটি বিক্রি করতে চাইলেও তাতে সম্মতি দিচ্ছেন না তিশা।
- দীর্ঘদিন প্রেম করার পর ২০১০ সালের ১৬ জুলাই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই তারকা দম্পতির ঘরে ইলহাম নুসরাত ফারুকী নামে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে এবং তাদের এই সংকট কাটাতে ঘনিষ্ঠজনেরা মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের বিনোদন অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত ও প্রভাবশালী তারকা দম্পতি নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার দীর্ঘ ১৬ বছরের দাম্পত্য জীবনে ছন্দপতনের খবর পাওয়া গেছে। ঘনিষ্ঠজনদের বরাত দিয়ে জানা যাচ্ছে, গত দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে তারা আলাদা থাকছেন এবং তাদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে মিডিয়াপাড়ায় নানা গুঞ্জন ডালপালা মেলছে। কাজের সূত্র ধরে পরিচয়, দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রেম এবং পরবর্তীতে ২০১০ সালের ১৬ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই জুটির সংসারে ইলহাম নুসরাত ফারুকী নামের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনের এই টানাপোড়েনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ফারুকী বা তিশা—কারো পক্ষ থেকেই কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্পর্কের এই দূরত্বের পেছনে মূলত মতের অমিল ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্টরা। গুঞ্জন রয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় যৌথভাবে কেনা একটি বাড়ি বিক্রি করা নিয়ে দুজনের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। ফারুকী ওই সম্পত্তি বিক্রি করতে ইচ্ছুক হলেও তিশা তাতে সম্মতি দিচ্ছেন না, যা পরবর্তীতে বড় ধরনের দূরত্ব তৈরি করেছে। তবে ব্যক্তিগত জীবনের এই সংকটের মধ্যেও পেশাগত কাজ থেকে দূরে সরে নেই তিশা; সম্প্রতি তিনি ‘ফুলস্ক্রিন’ নামক নতুন একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন এবং তার প্রযোজিত ওয়েব ফিল্ম ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ মুক্তি পেয়েছে। অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনের পর থেকে ফারুকীকে মিডিয়ার নিয়মিত কার্যক্রমে তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছে।
এই দম্পতির সম্পর্কের এই সংকট যেন শেষ পর্যন্ত আইনি বিচ্ছেদে গড়ায় না, সে জন্য তাদের বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছেন। মান-অভিমান ও ভুল বোঝাবুঝি দূর করে তাদের সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলে শোনা গেলেও, শেষ পর্যন্ত এই প্রচেষ্টা কতটা সফল হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বাংলা মিডিয়াপাড়ায় তাদের এই সম্পর্কের রসায়ন সবসময়ই অনুকরণীয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে, ফলে হঠাৎ এমন গুঞ্জনে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে কোনো পক্ষ মুখ না খোলায় বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। তারকা দম্পতির ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অনেকেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করার কথা বলছেন। দীর্ঘ দুই দশকের সম্পর্ক ও ১৬ বছরের সুখের সংসার টিকিয়ে রাখতে তারা শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবেন কি না, নাকি চিরতরে ভেঙে যাবে এই পথচলা—সেই উত্তর জানার জন্য এখন ভক্ত ও অনুরাগীদের অপেক্ষা করতে হবে সময়ের ওপর।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।