৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"অনুমতি ছাড়া বিখ্যাত লোকগীতি ‘বড়লোকের বিটি লো’ গাওয়া এবং বিকৃত করার অভিযোগে মেটা কর্তৃপক্ষের কাছে ই-মেলের মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করেছেন পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত স্রষ্টা রতন কাহার। সোমবার সন্ধ্যায় সিউড়ির সাইবার থানার সহায়তায় এই ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইট লঙ্ঘনের অভিযোগ করা হয়। ১৯৭২ সালে রচিত এই গানটি নিয়ে এর আগেও ২০২০ সালে বলিউডে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সিউড়ির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত লোকশিল্পী রতন কাহার ১৯৭২ সালে ‘বড়লোকের বিটি লো’ গানটি লিখেছিলেন, যা সম্প্রতি বিনা অনুমতিতে গাওয়া ও বিকৃত করার অভিযোগ উঠেছে।
- সোমবার সন্ধ্যায় সিউড়ির সাইবার থানার মাধ্যমে মেটা কর্তৃপক্ষের কাছে ই-মেল করে ‘ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইট’ লঙ্ঘনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন খোদ শিল্পী ও তাঁর পরিবার।
- এর আগে ২০২০ সালে বলিউডের র্যাপার বাদশার ‘লাল গেন্দা ফুল’ গানে এই লোকগীতির সুর ব্যবহারের ঘটনায় বিতর্ক তৈরি হলে, বাদশা ভুল স্বীকার করে রতন কাহারকে ৫ লক্ষ টাকা সম্মানী দিয়েছিলেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বাংলার বিখ্যাত লোকগীতি ‘বড়লোকের বিটি লো’ গানটি নিয়ে আবারও তীব্র বিতর্ক দানা বেঁধেছে। গানটির প্রকৃত রচয়িতা ও পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত শিল্পী রতন কাহার অনুমতি ছাড়াই তাঁর সৃষ্টি গাওয়া এবং বিকৃত করার অভিযোগে এক গায়িকার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় সিউড়ির সাইবার থানার মাধ্যমে মেটা কর্তৃপক্ষের কাছে ই-মেল পাঠিয়ে ‘ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইট’ বা মেধা স্বত্ব লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। রতন কাহারের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট গায়িকা ও তাঁর বাবা কোনো রকম পূর্বানুমতি ছাড়াই গানটি মঞ্চে বা ডিজিটাল মাধ্যমে পরিবেশন করেছেন। শুধু তাই নয়, গানের মূল কথা ও সুরেও গুরুতর বিকৃতি ঘটানো হয়েছে বলে তাঁর দাবি। স্রষ্টা হিসেবে তাঁকে কোনো ধরনের স্বীকৃতি বা কৃতজ্ঞতা না জানানোয় স্থানীয় সংস্কৃতি জগতেও তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
সংবাদমাধ্যমের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে রতন কাহার জানান, দীর্ঘ জীবনে বহু শিল্পী তাঁকে প্রাপ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করলেও তিনি গানকে আঁকড়ে বেঁচে আছেন। তাঁর বহু সাধনার গান এ ভাবে বিকৃত করায় তিনি গভীরভাবে আঘাত পেয়েছেন। ১৯৭২ সালে সিউড়ির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাড়িতে বসে তিনি এই জনপ্রিয় লোকগানটি রচনা করেছিলেন। দীর্ঘ ৪ দশক পর ২০২০ সালে বলিউডের জনপ্রিয় র্যাপার বাদশার গাওয়া ‘লাল গেন্দা ফুল’ গানে এই লোকগীতির সুর ও কলি ব্যবহার করা হলে দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সে সময় তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে বাদশা নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং রতন কাহারকে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সম্মানী দিয়ে কৃতিত্ব স্বীকার করেন। ওই ঘটনার পরই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সুপারিশে এবং লোকসংস্কৃতিতে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারত সরকার তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত করে।
শিল্পীর ছেলে শিবনাথ কাহার জানান, অতীতে বলিউড তারকা বাদশা ভুল স্বীকার করে বাবার প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দিলেও, বর্তমান ঘটনায় তা সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হয়েছে। বাবা এখন একজন পদ্মশ্রী প্রাপক হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে পুরোপুরি অন্ধকারে রেখে এ ধরনের কপিরাইট লঙ্ঘন অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও অপমানজনক। বাধ্য হয়েই তাঁরা আইনের আশ্রয় নিয়েছেন এবং সাইবার থানার মাধ্যমে মেটা কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার চেয়েছেন। স্থানীয় সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিজীবী মহল মনে করছে, এই আইনি পদক্ষেপ দেশের লোকশিল্পীদের মেধা স্বত্ব ও কপিরাইট সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
লোকসংগীত গবেষক ও সচেতন মহলের মতে, লোকশিল্পীদের না জানিয়ে তাদের গান বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার এবং বিকৃত করার সংস্কৃতি দিন দিন বাড়ছে। রতন কাহারের এই জোরালো প্রতিবাদ ভবিষ্যতে গ্রামীণ লোকশিল্পীদের অধিকার রক্ষায় এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কপিরাইট আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার Aaro Ananda-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।