হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত প্রবেশদ্বারে অবস্থিত ইরানের বৃহত্তম কেশম দ্বীপকে কেন্দ্র করে ফের চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে। আন্তর্জাতিক তেল পরিবহনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ জলসীমায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সামরিক মহড়া ও ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা সতর্কবার্তায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- প্রায় ১,৪৯১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কেশম দ্বীপ হরমুজ প্রণালীর মুখে অবস্থিত, যে জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট সমুদ্রবাহিত অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়।
- কেশম দ্বীপে আইআরজিসির ড্রোন ঘাঁটি ও উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারি সক্রিয় করার প্রতিক্রিয়ায় ওমান উপসাগরে মার্কিন পঞ্চম নৌবহর (US 5th Fleet) নজরদারি ও টহল জোরদার করেছে।
- ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ মার্কিন নীতি-নির্ধারকদের কড়া হুঁশিয়ারি এবং তেহরানের সামরিক অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ও নৌ-বীমা প্রিমিয়ামে নতুন করে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
হরমুজ প্রণালীর প্রবেশমুখে অবস্থিত ইরানের সর্ববৃহৎ দ্বীপ 'কেশম' ফের ওয়াশিংটন ও তেহরানের সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই দ্বীপে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তাদের দ্রুতগামী মিসাইল বোট, অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থা এবং উপকূলীয় ব্যালিস্টিক ইউনিট মোতায়েন জোরদার করার পর যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা কঠোর সামরিক সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছে। পারস্য উপসাগরের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
প্রায় ১,৪৯১ বর্গকিলোমিটার আয়তনবিশিষ্ট কেশম দ্বীপ পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী সরু নৌপথ হরমুজ প্রণালীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই সমুদ্রপথ দিয়ে দৈনিক প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য পরিবাহিত হয়। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার চাপ ও মার্কিন বিমান হামলার হুমকির মুখে তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই কেশম দ্বীপে ভূগর্ভস্থ মিসাইল বাঙ্কার ও ড্রোন লঞ্চপ্যাড গড়ে তুলেছে, যার মাধ্যমে সংকটের মুহূর্তে পুরো প্রণালী অবরুদ্ধ করার সক্ষমতা রাখে তারা।
বাহরাইনভিত্তিক মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। কোনো ধরনের উসকানি বা আন্তর্জাতিক নৌপথ রুদ্ধ করার চেষ্টা করা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে পেন্টাগন হুঁশিয়ার করেছে। বিপরীতে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কমান্ড জানিয়েছে, যেকোনো বিদেশি আগ্রাসনের তাৎক্ষণিক ও বিধ্বংসী জবাব দিতে তাদের নৌ ও বিমান প্রতিরক্ষা শাখা প্রস্তুত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সামরিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেশম দ্বীপকে ঘিরে সামান্য ভুল বোঝাবুঝিও বড় ধরনের সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যার প্রত্যক্ষ ধাক্কা লাগবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। ইতোমধ্যেই কৌশলগত প্রণালীটিতে চলমান উত্তেজনার ফলে বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজের যুদ্ধকালীন বীমা মাশুল বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন নির্বাচন-পরবর্তী ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং তেহরানের অনড় অবস্থানের কারণে কেশম দ্বীপ সংলগ্ন এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম প্রধান উদ্বেগে পরিণত হয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।