পশ্চিমবঙ্গের মায়াপুরে ভক্ত ও পর্যটকদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় মন্দির সংলগ্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোতে আকস্মিক অভিযান চালিয়েছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর। অভিযানে ফ্রিজে পচা ময়দা, নষ্ট টক দই এবং মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য সংরক্ষণের প্রমাণ মেলে। বৈধ লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় একাধিক হোটেল ও রেস্তোরাঁ তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র মায়াপুরে মন্দির সংলগ্ন হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে যৌথ অভিযান চালায় খাদ্য সুরক্ষা দফতর।
- অভিযানে ফ্রিজের ভেতর থেকে পচা ময়দা, নষ্ট হয়ে যাওয়া টক দই এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে এমন বাসি খাবার জব্দ করা হয়।
- বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেরই বৈধ ট্রেড লাইসেন্স বা খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত ফুড লাইসেন্স না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবসা পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বখ্যাত তীর্থক্ষেত্র ও পর্যটন কেন্দ্র মায়াপুরে আগত দেশি-বিদেশি ভক্ত ও পর্যটকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় ধরণের অভিযান পরিচালনা করেছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর। মন্দির সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং খাদ্য বিপণন কেন্দ্রে এই আকস্মিক তল্লাশি চালানো হয়। সাম্প্রতিক সময়ে নিম্নমানের ও বাসি খাবার পরিবেশনের অভিযোগ ওঠার পর এই কঠোর পদক্ষেপ নেয় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
অভিযান চলাকালীন পরিদর্শকরা হোটেলগুলোর রান্নাঘর এবং খাদ্য সংরক্ষণাগার বা কোল্ড স্টোরেজ পরীক্ষা করে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখতে পান। বিশেষ করে ফ্রিজের ভেতর দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখা পচা ময়দা, গন্ধ হয়ে যাওয়া টক দই এবং পচনশীল খাদ্যদ্রব্যের সাথে রান্না করা খাবার একসঙ্গে সংরক্ষিত ছিল। এই দৃশ্য দেখে খাদ্য পরিদর্শকরাও বিস্ময় প্রকাশ করেন, যা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।
তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোর বড় একটি অংশেরই খাদ্য সুরক্ষা দফতরের কোনো বৈধ লাইসেন্স বা নবায়নকৃত কাগজপত্র ছিল না। এমনকি রান্নার কাজে নিয়োজিত কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি মানার বা বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষার কোনো প্রমাণও দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানগুলোর কতৃপক্ষ। অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় অবিলম্বে বেশ কয়েকটি হোটেল ও রেস্তোরাঁ সিলগালা বা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
মায়াপুরের মতো আন্তর্জাতিক মানের তীর্থক্ষেত্রে এ ধরণের অনিয়ম পর্যটন শিল্প ও জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বার্থ রক্ষার্থে এই ধরণের অভিযান শুধু মায়াপুরেই নয়, বরং জেলার অন্যান্য পর্যটন অঞ্চলেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।