পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় একাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ধৃত প্রহ্লাদ দাস পুলিশের সঙ্গে এনকাউন্টারে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোররাতে অপরাধস্থলে পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশ কর্মকর্তা রিভলভার ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। বনগাঁ সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা থানা এলাকায় কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর সকালে একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীর রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়, যার পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্ষণ ও খুনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।
- মঙ্গলবার ভোররাতে মূল অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসকে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখান থেকে ফেরার পথে পুলিশের রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে সে গুলি চালায় বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
- বনগাঁ পুলিশ জেলার এসপি বিদিশা কলিতা দাশগুপ্তের প্রাথমিক তদন্ত ও মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের নির্দেশনার পর, অভিযুক্তের মৃত্যুতে বারুইপুরের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে বলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের মূল অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার ভোররাতে পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় অপরাধের পুনর্নির্মাণকালে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। এর আগে বারুইপুরেও নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ধৃত প্রভাস মণ্ডলের একইভাবে মৃত্যু হয়েছিল, যা এই ঘটনার সঙ্গে গভীর মিল রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন সকালে গাইঘাটায় ওই ছাত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার ভোররাতে তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছিল। সেখান থেকে ফেরার সময় সে হঠাৎ এক পুলিশ আধিকারিকের সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেয় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রহ্লাদকে দ্রুত বনগাঁ সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার দুই দিন আগে বনগাঁ পুলিশ জেলার এসপি বিদিশা কলিতা দাশগুপ্ত একটি সংবাদ সম্মেলনে জানান যে, প্রাথমিক তদন্তে এটি খুন ও ধর্ষণের ঘটনা বলেই প্রতীয়মান হয়েছে এবং ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে নির্যাতিতা ছাত্রীর পরিবারের দাবি, এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে আরও অন্তত দু'জন যুক্ত রয়েছে। একা প্রহ্লাদের পক্ষে এই অপরাধ করা সম্ভব নয় বলে তারা অভিযোগ করেন। পুলিশ এই ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না এবং প্রহ্লাদ কত রাউন্ড গুলি চালিয়েছিল তা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। এই এনকাউন্টারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।