৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শিশুদের বাড়তে থাকা স্থূলতা মোকাবিলায় বুধবার প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক নির্দেশনা জারি করেছে। সংস্থটি জনপ্রিয় ওজন কমানোর ওষুধের পরিবর্তে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম ও আচরণগত পরিবর্তনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। ২০২৪ সালে ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী প্রায় ৪০ কোটি শিশু অতিরিক্ত ওজন ও ১৭ কোটি কিশোর-কিশোরী স্থূলতার সমস্যায় ভুগেছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শিশুদের স্থূলতা রোধে প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক নির্দেশনা প্রকাশ করেছে, যেখানে ওষুধ বা অস্ত্রোপচারের চেয়ে খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
- সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০ কোটি মানুষ অতিরিক্ত ওজন এবং ১৭ কোটি মানুষ স্থূলতায় ভুগেছে, যা ১৯৯০ সালের তুলনায় চার গুণ বেশি।
- যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে ১২ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য নোভো নরডিস্কের ওয়েগোভি ও স্যাক্সেন্ডা ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও ১০ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে ওষুধ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের ক্রমবর্ধমান স্থূলতা সমস্যা মোকাবিলায় বুধবার প্রথমবারের মতো একটি ব্যাপকভিত্তিক বৈশ্বিক নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘের শিশু তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান বিশ্বে স্কুলশিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে অপুষ্টির প্রধান ধরন হিসেবে কম ওজনকে পেছনে ফেলে স্থূলতা স্থান করে নিয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জনপ্রিয় ওজন কমানোর ওষুধের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও পারিবারিক পরামর্শকে ভিত্তি করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে স্থূলতা রোধে কোনো ধরনের ওষুধ, অস্ত্রোপচার বা কৃত্রিম যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না; বরং তাদের জন্য খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, আচরণগত সহায়তা এবং শারীরিক কার্যক্রমের সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে, ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের কঠোর তত্ত্বাবধানে এবং অন্যান্য পদ্ধতি ব্যর্থ হলেই কেবল ওজন কমানোর ওষুধ বা গুরুতর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার বিবেচনা করা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ যেমন নোভো নরডিস্কের ওয়েগোভি বা স্যাক্সেন্ডা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে ১২ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য অনুমোদিত হলেও শিশুদের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে এখনও পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য নেই। সংস্থার পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক লুজ মারিয়া দে রেগিল জানিয়েছেন, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের চিকিৎসার মূল ভিত্তি কোনোভাবেই ওষুধ বা সার্জারি হতে পারে না, বরং স্বাস্থ্যকর খাবার ও সক্রিয় জীবনযাত্রা নিশ্চিত করাই এর একমাত্র স্থায়ী সমাধান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী প্রায় ৪০ কোটি মানুষ অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় আক্রান্ত ছিল, যার মধ্যে প্রায় ১৭ কোটি মানুষই ছিল তীব্র স্থূলতার শিকার। ১৯৯০ সালের তুলনায় এই বয়সিদের মধ্যে স্থূলতার হার বর্তমানে চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বজুড়ে এই মহামারি রোধে শুধু চিকিৎসা নয়, বরং সবার জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিরাপদ শারীরিক কার্যক্রমের সুযোগ সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করার ওপর জোর দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার দৈনিক কালের কণ্ঠ-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।