বকেয়া বেতন ও নানা দাবিতে গাজীপুরের কোনাবাড়ী ও মিরপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকরা। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ ঘটে, যাতে বেশ কয়েকটি স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধসহ একটি পুলিশ বক্সে আগুন ও পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চালান। নিরাপত্তার স্বার্থে মিরপুরে কয়েকটি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং একটি পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
- রাজধানীর মিরপুর-১০ গোলচত্বর ও আশপাশের এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যার ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।
- অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) নিরাপত্তার স্বার্থে মিরপুর এলাকার অন্তত তিনটি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
গাজীপুর ও ঢাকার মিরপুর শিল্পাঞ্চলে বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং বিভিন্ন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে টানা বিক্ষোভ করছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে গাজীপুরের ব্যস্ততম কোনাবাড়ী এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা। এ সময় সড়ক অবরোধের পাশাপাশি পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা একটি পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেন এবং বেশ কয়েকটি যানবাহনে ভাঙচুর চালান। মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও দূরপাল্লার যানের চালকরা।
অন্যদিকে, রাজধানীর মিরপুর-১০ গোলচত্বর এলাকায় শ্রমিকদের আন্দোলন দ্রুত তীব্র আকার ধারণ করে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে, যার জবাবে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন শ্রমিকেরা। এই সংঘাতের সময় একটি পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মিরপুর অঞ্চলের মেট্রো স্টেশনগুলোর কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখে কর্তৃপক্ষ।
উত্তপ্ত এই পরিস্থিতিতে শিল্পাঞ্চল এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে অতিরিক্ত পুলিশ, এপিবিএন ও যৌথ বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধের বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।
বিশ্লেষকদের মতে, তৈরি পোশাক খাতের এই ধারাবাহিক অসন্তোষ দেশের সামগ্রিক রপ্তানি বাণিজ্য ও সাপ্লাই চেইনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিয়মিত পরিশোধ এবং কারখানা মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমেই কেবল এই ধরনের অস্থিরতা স্থায়ীভাবে নিরসন করা সম্ভব।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।