লাইভ
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
প্লে-স্টোর অ্যাপ

গালি কাম্য নয়, কিন্তু জবাবে পুলিশ পাঠানো কি গণতান্ত্রিক?

প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: 07 সেপ্টেম্বর 2026, 06:07 সকাল | পড়ার সময়: 1 মিনিট | 85 বার পঠিত
গালি কাম্য নয়, কিন্তু জবাবে পুলিশ পাঠানো কি গণতান্ত্রিক?
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ

গাজীপুরে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার প্রতিবাদে সোশ্যাল মিডিয়ায় অশালীন ভাষায় ভিডিও প্রকাশ করায় সিফাত আব্দুল্লাহ নামে এক তরুণকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এই নিবন্ধে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, নাগরিকের ভাষা অশালীন হলেও রাষ্ট্রের এমন কঠোর দমনমূলক প্রতিক্রিয়া কি গণতান্ত্রিক? মতপ্রকাশের অধিকার ও সমালোচনা সহ্য করার ক্ষমতাই প্রকৃত গণতন্ত্রের পরিচায়ক, পুলিশ দিয়ে এর জবাব খোঁজা কাম্য নয়।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • গাজীপুরে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের (৪-৫ হাজার টাকা) ক্ষোভে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে অশালীন ভাষায় ভিডিও প্রকাশ করায় সিফাত আব্দুল্লাহ নামের এক তরুণকে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।
  • নিবন্ধকারের মতে, অশালীন ভাষা ব্যবহার কাম্য না হলেও, সরকারি সেবা নিয়ে প্রশ্ন তোলা ও সরকারের সমালোচনা করা নাগরিকের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার।
  • জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বা সমালোচনাকে পুলিশ দিয়ে বা দমন-পীড়নের মাধ্যমে মোকাবেলা করা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থী।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান সৌন্দর্য হলো সমালোচনা সহ্য করার ক্ষমতা। ক্ষমতাসীন সরকারকে ঘিরে স্তুতিবাক্য শোনার চেয়ে নাগরিকরা যখন বিরক্ত বা ক্ষুব্ধ হয়ে সরকারের সমালোচনা করেন, তখনই রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পরিপক্বতার আসল পরীক্ষা হয়।

সম্প্রতি গাজীপুরে সিফাত আব্দুল্লাহ নামে এক তরুণকে গ্রেপ্তারের ঘটনা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল (এক মাসে ৪ হাজার এবং আগের মাসে ৫ হাজার টাকা) আসার ক্ষোভে ওই তরুণ ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রতি অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের তথ্যের ভিত্তিতে ৩ সেপ্টেম্বর রাতে পুলিশ তাকে আটক করে এবং পরদিন সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে প্রকাশিত এই মতামত কলামে লেখক সাজ্জাদ সাব্বির উল্লেখ করেছেন যে, রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষা বা ব্যক্তিগত গালাগালি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু একজন নাগরিকের ভাষা খারাপ হলেই রাষ্ট্র তাকে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করবে কি না, সেটি ভাবার বিষয়। সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। নাগরিকরা সরকারকে কর দেন, তাই সরকারি সেবা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পূর্ণ অধিকার তাদের আছে।

নিবন্ধে রাঙামাটি সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আবু আবরার আলভীর একটি উদাহরণও টানা হয়েছে। বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে ফেসবুকে একটি সাধারণ পোস্ট দেওয়ার কারণে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় এবং পরে বহিষ্কার করা হয়। রাজনৈতিক দল বা সরকারের ভেতরে এই ধরনের অসহিষ্ণুতা তৈরি হলে বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক খবর সরকারের কাছে পৌঁছাবে না।

দার্শনিক জন স্টুয়ার্ট মিল এবং ইয়ুর্গেন হাবারমাসের ‘পাবলিক স্ফিয়ার’ তত্ত্ব উল্লেখ করে নিবন্ধে বলা হয়েছে, গণতন্ত্র কেবল নির্বাচনের দিন ভোট দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে অস্বস্তিকর, কঠিন এবং কখনো অভদ্র মতামতেরও জায়গা থাকে। নাগরিকের ক্ষোভ যদি শ্লীলতার সীমা অতিক্রমও করে, তবে সেটি সামাজিকভাবেই দেখা উচিত। পুলিশ দিয়ে এর উত্তর খোঁজা সুস্থ গণতন্ত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

সম্পাদকীয় নীতি ও তথ্য যাচাই

বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

সর্বশেষ খবর ও তাৎক্ষণিক ব্রেকিং পুশ নোটিফিকেশন

প্রতিদিনের নির্ভরযোগ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সবার আগে পড়তে ইনস্টল করুন বাংলা নিউজ ২৪-এর অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। নির্ভুল খবর, তাৎক্ষণিক ব্রেকিং আপডেট ও সাবলীল পাঠ-অভিজ্ঞতা।

GET IT ON
Google Play
গুগল প্লে স্টোরে ক্লোজড বেটা ও আর্লি অ্যাক্সেস লাইভ