ঘুরে আসুন ঢাকার নতুন বিনোদনকেন্দ্র অ্যাকুয়ারিয়াম পার্কে, যেখানে আছে মাছ, পাখি ও জলপ্রপাত
৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"ঢাকার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী জাদুঘরে যাঁরা গেছেন, তাঁরা আবারও নতুন করে যাওয়ার পরিকল্পনা করতে পারেন। কারণ, সম্প্রতি এখানে চালু হয়েছে অ্যাকুয়ারিয়াম পার্ক।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ঢাকার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী জাদুঘরে যাঁরা গেছেন, তাঁরা আবারও নতুন করে যাওয়ার পরিকল্পনা করতে পারেন।
- অ্যাকুয়ারিয়াম চাষের উপযোগী সেই ছোট ছোট মাছ যে কয়টা ধরতে পারবে, তা সে সঙ্গে করে নিয়েও যেতে পারবে।
- সোম থেকে বৃহস্পতি বেলা ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত আর শুক্র, শনি ও সরকারি ছুটির দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ঢাকার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী জাদুঘরে যাঁরা গেছেন, তাঁরা আবারও নতুন করে যাওয়ার পরিকল্পনা করতে পারেন। কারণ, সম্প্রতি এখানে চালু হয়েছে অ্যাকুয়ারিয়াম পার্ক। ঘুরে ঘুরে কাচের দেয়ালের ওপাশে থাকা মাছের রঙিন দুনিয়া দেখা, মাছ ধরা, মাছকে খাওয়ানো—সবকিছুই মুগ্ধ করবে।
৪০ ফুট উঁচু কৃত্রিম পাহাড়ি ঝরনা, ম্যাকাউসহ ভিনদেশি সব পাখির সঙ্গে ছবি তোলাসহ আরও অনেক আয়োজন নিয়ে গত ২৮ আগস্ট উদ্বোধন হয়েছে অ্যাকুয়ারিয়াম পার্ক। সেটাই আমাকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখালেন অ্যাকুয়ারিয়াম পার্কের পরিচালক তাহসিন রহমান ও এস এম এহসানুল হক।
বিস্ময়কর মাছের জগৎসম্প্রতি বিমানবাহিনী জাদুঘরে উদ্বোধন হয়েছে অ্যাকুয়ারিয়াম পার্কেরছবি: সাবিনা ইয়াসমিনপার্কে আছে ৩৫টি অ্যাকুয়ারিয়াম ট্যাংক। প্রতিটি ট্যাংকের ওপরে প্ল্যাকার্ডে মাছের নাম, আবাস, পরিচিতি লেখা আছে। এখানে রয়েছে ঝুঁটিওয়ালা ফ্লাওয়ার হর্ন, চিংড়ির মতো দেখতে ক্রেফিশ, কুমিরের মতো মুখ অ্যালিগেটর গার, ভয়ংকর অ্যালবিনো শার্ক, রেইনবো শার্ক, পেরুন শার্ক, পাঙাশ মাছের মতো দেখতে পাঙ্গাসিয়াস শার্কসহ আরও অনেক মাছ।
মনে হচ্ছিল, টিভি পর্দায় বা মুঠোফোন স্ক্রিনে দেখা ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের মাছের দুনিয়া যেন বাস্তবে চোখের সামনে এসে হাজির হয়েছে। শামুক খেয়ে বড় হওয়া ৪ বছর বয়সী ১২ কেজি ওজনের ব্ল্যাক কার্প, ৮ কেজি ওজনের গ্রাস কার্প, আড়াই কেজি ওজনের তেলাপিয়া—কোনটা রেখে কোনটার কথা বলব! আছে শোল, খলশেসহ দেশি মাছের সংগ্রহ।
৪০ ফুট উঁচু কৃত্রিম পাহাড়ি ঝরনাছবি: সাবিনা ইয়াসমিনমাছের জগৎ থেকে বেরিয়ে এক পাশে পদ্মফুলের বাগান রেখে সামনে এগোলেই একটা টানেল। কৃত্রিম ধোঁয়া সময়ে সময়ে রং পাল্টাচ্ছে। এরপরই সামনে ঝমঝমিয়ে পড়া কৃত্রিম পাহাড়ি ঝরনাধারার পানি। সেই পানিতে ভেসে বেড়াচ্ছে রঙিন সব কই, কার্প মাছ। মাছকে নিজ হাতে খাবার খাওয়ানোর সুযোগ মিলবে।
আছে পাখির রাজ্যম্যাকাউ পাখি হাতে নিয়ে ছবি তোলার ব্যবস্থা থাকছে এখানেছবি: সাবিনা ইয়াসমিনকৃত্রিম পাহাড়ি ঝরনাধারার পর লোহার শিকলের পর্দা সরিয়ে পা ফেলি পাখির রাজ্যে। এখানে রয়েছে গ্রিন-উইংড ম্যাকাউ, ব্লু অ্যান্ড গোল্ড ম্যাকাউ, লাভবার্ডসহ বিচিত্র সব পাখি। পার্কের পাখিশালায় বিভিন্ন রঙের পাখিকে কাছ থেকে দেখার সঙ্গে রয়েছে ছবি তোলার সুযোগও।
শিশুদের জন্য আছে মাছ ধরার সুযোগছবি: সাবিনা ইয়াসমিন১২ ও এর কম বয়সী শিশুরা ১০০ টাকার বিনিময়ে ছোট নেট দিয়ে মাছ ধরার সুযোগ পাবে। অ্যাকুয়ারিয়াম চাষের উপযোগী সেই ছোট ছোট মাছ যে কয়টা ধরতে পারবে, তা সে সঙ্গে করে নিয়েও যেতে পারবে। চাইলে এখান থেকে অ্যাকুয়ারিয়ামের জারও কিনে নিতে পারবে।
নিজ হাতে মাছকে খাবার দিতে পারবেনছবি: সাবিনা ইয়াসমিন৫০ টাকার টিকিটে যে কেউ নির্দিষ্ট দুটি জায়গায়—লিচুতলার বড় পানির ট্যাংক আর ৪০ ফুট উঁচু থেকে পড়া পাহাড়ি ঝরনার তলা—নিজ হাতে মাছকে খাবার দিতে পারবেন। ছোট্ট কৌটায় শর্ষের দানার মতো খাবার হাতে নিয়ে পানিতে ফেলবেন, অমনি ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা মাছগুলো সব দল বেঁধে ছুটে আসবে আপনার কাছে।
দর্শনার্থীদের জন্য আছে নানা আয়োজনছবি: সাবিনা ইয়াসমিন২৫০ টাকার টিকিট কেটে পাখিশালায় ম্যাকাউ পাখি হাতে নিয়ে ছবি তোলার ব্যবস্থাও আছে। চাইলে ৩০০ টাকার বিনিময়ে ম্যাকাউ কাঁধে নিয়ে ৩৬০ ডিগ্রি ফটো বুথেও ছবি ওঠাতে পারেন। পুরো পার্ক ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হলে অ্যাকুয়ারিয়াম পার্ক ক্যাফেতে আছে খাবারদাবারের ব্যবস্থা।
অ্যাকুয়ারিয়াম পার্কটি রোববার বন্ধ থাকবেছবি: সাবিনা ইয়াসমিনঅ্যাকুয়ারিয়াম পার্কের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফ সিদ্দিকী জানান, শিগগিরই পার্কে যোগ হচ্ছে লোনাপানির বিচিত্র সব মাছ। মাছের গ্যালারি শেষে ঝরনার আগে যে টানেল পড়ে, সেখানে কাচের জারে প্রদর্শিত হবে বিশেষ উপায়ে সংরক্ষিত বিলুপ্তপ্রায় সব মাছ।
এসব মাছকে জীবন্ত অবস্থায় প্রদর্শন করা সম্ভব হচ্ছে না বলেই এ ব্যবস্থা। মাছের পাশাপাশি যোগ হবে বার্ড ফিডিং জোন, যেখানে দর্শনার্থীদের হাত থেকেই পাখিরা উড়ে উড়ে এসে খাবার খেয়ে যাবে। এ ছাড়া স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে বিশেষ কুইজ, ওয়ার্কশপ ও লার্নিং সেশন জোন।
টিকিট খরচপার্কের পাখিশালাছবি: সাবিনা ইয়াসমিনবাংলাদেশ বিমানবাহিনী জাদুঘরের ভেতরেই পার্কটির অবস্থান। তাই শুরুতে দুই বছরের বেশি বয়সী দর্শনার্থীদের জাদুঘরের ৫০ টাকা দামের টিকিট কাটতে হবে। জাদুঘরে ঢুকে হাতের ডানে হেঁটে গেলেই অ্যাকুয়ারিয়াম পার্ক।
সেখানেও দুই বছরের বেশি বয়সীদের ১৫০ টাকায় টিকিট কেটে পার্কে প্রবেশ করতে হবে। ২৭ সেপ্টেম্বরের পর টিকিটের মূল্য হবে ২০০ টাকা। দলগতভাবে ভ্রমণে আসা স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য টিকিটের মূল্যে মিলবে ৫০ শতাংশ ছাড়।
মাছের রাজ্যেছবি: সাবিনা ইয়াসমিনআগারগাঁও মেট্রোস্টেশনের একেবারে লাগোয়া জাদুঘরটির অবস্থান। তাই আগারগাঁও আসতে হবে। সোম থেকে বৃহস্পতি বেলা ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত আর শুক্র, শনি ও সরকারি ছুটির দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকে। রোববার সাপ্তাহিক ছুটি।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার প্রথম আলো-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।