বিহারের ভাগলপুরে বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচির জনসভায় কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোটকে তীব্র আক্রমণ করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। তিনি দাবি করেন, গণতন্ত্র নয়, বরং বিরোধী দলের আসনই আজ বিপদের মুখে। রামলীলা ময়দানের সমাবেশ ও ইভিএম বিতর্ক নিয়ে রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে তিনি বলেন, পরাজয় ঢাকতেই বিরোধীরা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন বিহারের ভাগলপুরে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ পদযাত্রা ও জনসভায় নেতৃত্ব দেন।
- তিনি অভিযোগ করেন, দিল্লির রামলীলা ময়দানের সমাবেশে কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোট মিথ্যা প্রচার চালিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে।
- নীতিন নবীন ২০১৪ সালের ইউপিএ সরকারের পতনের কারণ হিসেবে ব্যাপক দুর্নীতি, কেলেঙ্কারি এবং সন্ত্রাসবাদী হামলার কথা উল্লেখ করেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বিহারের ভাগলপুরে বিজেপির আয়োজিত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এক বিশাল পদযাত্রা ও জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন কংগ্রেস এবং ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি দাবি করেন, দেশে গণতন্ত্র বিপন্ন নয়, বরং বিরোধী দলগুলির বসার আসনই আজ চরম বিপদের মুখে রয়েছে। আগামী দিনে সাধারণ মানুষ তাদের প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসারও যোগ্য মনে করবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নীতিন নবীন অভিযোগ করেন যে, বিরোধী দলগুলির একমাত্র উদ্দেশ্য ক্ষমতা দখল করা এবং এজন্য তারা রাজনৈতিক অপপ্রচারের আশ্রয় নিচ্ছে। এর আগে রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে আয়োজিত বিরোধীদের সমাবেশ প্রসঙ্গে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকেও কঠোর ভাষায় নিশানা করেন তিনি। তাঁর দাবি, রামলীলা ময়দানে মিথ্যা প্রচারের মাধ্যমেই জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে কংগ্রেস ও তার সহযোগীরা।
নির্বাচনী ফলাফল এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেন বিজেপি সভাপতি। তিনি বলেন, নির্বাচনে নিজেদের পক্ষে ফল এলে বিরোধীরা চুপ থাকে, কিন্তু পরাজয় নিশ্চিত হলেই তারা নির্বাচন কমিশনসহ দেশের অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং বদনাম করার চেষ্টা চালায়। পরাজয়ের পর ইভিএমকে দায়ী করার পুরনো অভ্যাস বিরোধীরা এখনও বজায় রেখেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
২০১৪ সালের ইউপিএ সরকারের পতনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে এনে নীতিন নবীন বলেন, তৎকালীন সরকারের আমলে লাগামছাড়া দুর্নীতি, একের পর এক কেলেঙ্কারি এবং ধারাবাহিক সন্ত্রাসবাদী হামলায় দেশ জর্জরিত ছিল। কৃষকদের চরম অবহেলা এবং যুবসমাজের হতাশার কারণেই জনগণ সেই সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। কিন্তু সেই পরাজয় থেকে শিক্ষা না নিয়ে বিরোধীরা কেবল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে যাচ্ছে, যা দেশের ১৪০ কোটি মানুষ এখন পুরোপুরি বুঝতে পেরেছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।