৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"আসন্ন পুজোর আগে কলকাতার বাজারে সোনা ও রুপোর দামে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্বর্ণ শিল্প বাঁচাও কমিটির তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ থেকে ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের মধ্যে প্রতি গ্রামে সোনার দাম ১০ টাকা কমলেও ১ কেজি রুপোর দাম ৮৩৫ টাকা বেড়ে ২,২৪,৮৯১ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই মূল্য হ্রাসের ফলে ২২ ক্যারেট সোনা প্রতি গ্রাম ১৩,৯৬০ টাকায় বিকোচ্ছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- স্বর্ণ শিল্প বাঁচাও কমিটির রেটকার্ড অনুযায়ী, ৩ থেকে ৫ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রামে ১০ টাকা কমে ১৩,৯৬০ টাকায় নেমেছে এবং ১০ গ্রামে মোট ১০০ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।
- সোনার দাম সামান্য কমলেও বিপরীতমুখী ধারায় ৩ থেকে ৫ অক্টোবরের মধ্যে ১ কেজি ৯৯৯ বিশুদ্ধতার রুপোর দাম ৮৩৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২,২৪,৮৯১ টাকায় পৌঁছেছে।
- প্রকাশিত এই দরগুলিতে ৩% জিএসটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, ফলে সেন্ট্রাল বোর্ড অব ইনডাইরেক্ট ট্যাক্সেস অ্যান্ড কাস্টমসের নিয়ম অনুযায়ী চূড়ান্ত কেনাকাটার বিলে জিএসটি যুক্ত হবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আসন্ন দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে যখন সাধারণ ক্রেতারা গয়না কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক সেই সময়ে কলকাতার বুলিয়ন বাজারে সোনা ও রুপোর দামে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। স্বর্ণ শিল্প বাঁচাও কমিটি (SSBC)-এর প্রকাশিত সাম্প্রতিক রেটকার্ড অনুযায়ী, গত ৩ থেকে ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের মধ্যে সোনার দামে সামান্য পতন হলেও রুপোর বাজার ছিল সম্পূর্ণ উল্টোমুখী। এই দুই দিনে গ্রাহকদের জন্য সোনার দামে খুব বড় কোনো স্বস্তি না মিললেও, রুপোর দাম বেশ খানিকটা বৃদ্ধি পেয়েছে যা ক্রেতাদের কিছুটা হতাশ করতে পারে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩ অক্টোবর সকাল ১০টা ২০ মিনিটে Fine Gold (995)-এর দাম প্রতি গ্রাম ১৪,৭০৪ টাকা থাকলেও ৫ অক্টোবর তা কমে ১৪,৬৯৪ টাকায় দাঁড়িয়েছে। একইভাবে, ২২ ক্যারেট বা ৯১৬ বিশুদ্ধতার সোনার বিক্রয়মূল্য প্রতি গ্রামে ১০ টাকা কমে ১৩,৯৬০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রাম ১১,৪৬০ টাকায় নেমেছে। তবে সোনার সামান্য এই পতন ১০ গ্রামের হিসেবে মাত্র ১০০ টাকার সাশ্রয় নিয়ে এসেছে। এর বিপরীতে, ৩ অক্টোবর ১ কেজি ৯৯৯ বিশুদ্ধতার রুপোর দাম ছিল ২,২৪,০৫৬ টাকা, যা ৫ অক্টোবর ৮৩৫ টাকা বেড়ে ২,২৪,৮৯১ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, SSBC-এর এই প্রকাশিত মূল্যের সঙ্গে ৩% জিএসটি যুক্ত থাকে না। সেন্ট্রাল বোর্ড অব ইনডাইরেক্ট ট্যাক্সেস অ্যান্ড কাস্টমসের (CBIC) নিয়ম অনুযায়ী, খুচরো বাজারে গয়না বিক্রির সময় মোট লেনদেন মূল্যের ওপর ৩ শতাংশ হারে জিএসটি প্রযোজ্য হয়। ফলে ক্রেতাদের দোকান থেকে চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করার সময় এই হারের চেয়ে কিছুটা বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে। এছাড়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবেও দামের এই তারতম্য লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে এমসিএক্স (MCX) ও আন্তর্জাতিক স্পট গোল্ডের গতিবিধি ভিন্ন ইঙ্গিত দিয়েছে।
পুজোর কেনাকাটার ঠিক আগে সোনার এই নামমাত্র মূল্যহ্রাস বড় কোনো আর্থিক সাশ্রয় না করলেও ক্রেতাদের জন্য এটি একটি প্রতীকী সুযোগ তৈরি করেছে। তবে অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, শুধুমাত্র দুদিনের এই সামান্য পতন দেখে তাড়াহুড়ো করে বড় কোনো বিনিয়োগ বা কেনাকাটার সিদ্ধান্ত না নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় জুয়েলার্সের প্রিমিয়ামের বিষয়টিও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার ABP Ananda-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।