দেশের শীর্ষ টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন সিলেটে তাদের ডেটা সেন্টারে ৩২৫ কিলোওয়াট-পিক সক্ষমতার সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করেছে। জেডটিই-এর কারিগরি সহায়তায় ৪৫০টি সোলার প্যানেল সম্বলিত এই প্রকল্পটি দেশের বৃহত্তম ডেটা সেন্টার সোলার প্ল্যান্ট। এটি বছরে ৩০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে এবং ১৮৮ টন কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করবে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন ৫০% কমানোর লক্ষ্যমাত্রায় সহায়ক।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সিলেট ডেটা সেন্টারে স্থাপিত এই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ৩২৫ কিলোওয়াট-পিক সক্ষমতার, যেখানে ৪৫০টি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে এবং এটি বর্তমানে বাংলাদেশের যেকোনো ডেটা সেন্টারে স্থাপিত বৃহত্তম সোলার প্ল্যান্ট।
- প্রকল্পটি বার্ষিক ৩০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রতি বছর প্রায় ১৮৮ টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন হ্রাস করবে, যা গ্রামীণফোনের টেকসই ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ার অংশ।
- এই উদ্যোগটি গ্রামীণফোনের ২০১৯ সালের ভিত্তি বছরের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন ৫০% কমিয়ে আনার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রার সাথে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন তাদের সিলেট ডেটা সেন্টারে ৩২৫ কিলোওয়াট-পিক সক্ষমতার একটি অত্যাধুনিক সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করেছে। জেডটিই-এর কারিগরি সহযোগিতায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে ৪৫০টি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে, যা দেশের যেকোনো ডেটা সেন্টারের জন্য স্থাপিত বৃহত্তম সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র। গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন।
এই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে বছরে ৩০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গ্রামীণফোনের পরিচালন ব্যয় সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশগত প্রভাব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ১৮৮ টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন হ্রাস পাবে। মূলত ২০১৯ সালের ভিত্তি বছরের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন ৫০% কমিয়ে আনার যে লক্ষ্যমাত্রা গ্রামীণফোন গ্রহণ করেছে, এই সোলার প্ল্যান্টটি সেই লক্ষ্য অর্জনে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান বলেন, ডিজিটাল রূপান্তরের এই যুগে নির্ভরযোগ্য অবকাঠামোর পাশাপাশি পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা অপরিহার্য। জেডটিই বাংলাদেশের সিইও মাও জুন্যং জানান, উন্নত নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এই প্রকল্পটি শিল্পখাতে জ্বালানি-সাশ্রয়ী ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ার একটি অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে। অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের চিফ টেকনোলজি অফিসার আবুল কাসেম মহিউদ্দিন আল-আমিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এই উদ্যোগটি গ্রামীণফোনের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) বাস্তবায়নের একটি প্রতিফলন। নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কোম্পানিটি বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যতের জন্য একটি পরিবেশবান্ধব ও কার্বন-মুক্ত অবকাঠামো গড়ে তোলার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এই বিনিয়োগ কেবল কোম্পানির পরিচালন সক্ষমতাই বাড়াবে না, বরং দেশের সামগ্রিক জ্বালানি খাতের টেকসই রূপান্তরেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।