ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) বিশেষ অভিযানে গুলিস্তান-সদরঘাট প্রধান সড়কের ফুটপাত থেকে শতাধিক অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। ডিএসসিসি প্রশাসকের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত এলাকা দখলমুক্ত করা হয়। পুনরায় দোকান বসালে সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তারের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জনস্বার্থে এই সড়কটি স্থায়ীভাবে হকারমুক্ত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ডিএসসিসির ভ্রাম্যমাণ আদালত গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট অভিমুখী সড়কের দুই পাশের শতাধিক অবৈধ স্থাপনা ও হকারদের চৌকি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
- অভিযান চলাকালে ডিএসসিসি প্রশাসক ঘোষণা করেন যে, জনদুর্ভোগ লাঘবে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি হকারমুক্ত রাখা হবে এবং পুনরায় দখল করলে সরাসরি গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- উচ্ছেদ অভিযানের পর পুনরায় দখল ঠেকাতে ডিএসসিসির সম্পত্তি বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে নিয়মিত টহল ও সিসিটিভি মনিটরিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা গুলিস্তানে ফুটপাত ও রাস্তা দখলমুক্ত করতে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। বুধবার পরিচালিত এই অভিযানে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট অভিমুখী সড়কের দুই পাশের শতাধিক অবৈধ দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। ডিএসসিসির প্রশাসক এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই অভিযানে বুলডোজার ব্যবহার করে অবৈধ শেড ও মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়। মূলত পথচারীদের চলাচলের পথ সুগম করতে এবং যানজট নিরসনে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে গুলিস্তানের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি হকারদের দখলে থাকায় তীব্র যানজট ও পথচারীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল। এর আগে একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও হকাররা পুনরায় ফিরে আসায় এবার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অভিযানে ডিএসসিসির সম্পত্তি বিভাগ ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য অংশ নেন। অভিযানের খবর পেয়ে অনেক হকার তাদের মালামাল নিয়ে দ্রুত সটকে পড়লেও অবৈধভাবে নির্মিত স্থায়ী ও অস্থায়ী কাঠামো ভেঙে দেওয়া হয়।
অভিযান চলাকালে ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, গুলিস্তান-সদরঘাট সড়কটি রাজধানীর অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ। এখানে কোনোভাবেই ফুটপাত দখল করতে দেওয়া হবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'যদি কেউ পুনরায় দোকান বসানোর চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরসহ সরাসরি গ্রেপ্তার করা হবে।' স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও হকারদের পক্ষ থেকে পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছে। তবে প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে, জনস্বার্থই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
এই উচ্ছেদ অভিযানের ফলে গুলিস্তান এলাকায় সাময়িকভাবে যানজট কমলেও এর স্থায়িত্ব নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। অতীতে বড় ধরনের অভিযানের মাত্র আধা ঘণ্টার ব্যবধানে হকাররা পুনরায় ফিরে আসার নজির রয়েছে। তবে এবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত টহল ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে সড়কটি হকারমুক্ত রাখার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ সফল হলে সদরঘাটগামী যাত্রীদের যাতায়াতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে এবং নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।