রাজধানীর গুলশানের বহুল আলোচিত কিংফিশার রেস্তোরাঁ ও বারে অভিযান চালিয়ে দুই হাজার লিটারের বেশি বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রেস্তোরাঁটির বিশাল বিলবোর্ডের আড়ালে তৈরি করা হয়েছিল একটি গোপন গুদাম। শুল্ক ও কর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে এসব মাদক মজুত ও বিক্রি করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গুলশানের কিংফিশার রেস্তোরাঁয় বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুই হাজার লিটারের বেশি বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করা হয়েছে।
- রেস্তোরাঁটির বাইরে থাকা একটি সুবিশাল বিলবোর্ডের ঠিক আড়ালে সুকৌশলে তৈরি করা হয়েছিল এই অবৈধ গোপন গুদাম।
- কোনো ধরনের বৈধ লাইসেন্স ও শুল্ক-কর পরিশোধ না করেই দীর্ঘদিন ধরে এই মাদক ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছিল।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকা গুলশানের সুপরিচিত কিংফিশার রেস্তোরাঁ ও বারে যৌথ অভিযান চালিয়ে দুই হাজার লিটারের বেশি বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই আকস্মিক অভিযানে রেস্তোরাঁটির ভেতরে গড়ে তোলা অবৈধ সিন্ডিকেটের সন্ধান মেলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পাওয়ার আগেই চক্রের সঙ্গে জড়িত অনেকেই সটকে পড়েন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযانের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় ছিল রেস্তোরাঁটির বাহ্যিক অবকাঠামো। ভবনের সম্মুখভাগের একটি সুবিশাল বাণিজ্যিক বিলবোর্ডের ঠিক আড়ালে অত্যন্ত সুকৌশলে একটি গোপন গুদাম বা ওয়্যারহাউস তৈরি করা হয়েছিল। সাধারণ দৃষ্টিতে ওই বিলবোর্ড ছাড়া অন্য কিছু বোঝার উপায় ছিল না, যার আড়ালে বছরের পর বছর ধরে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্য লুকিয়ে রাখা হতো।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারের কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন বা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়াই এই ব্যবসা চলছিল। নামমাত্র রেস্তোরাঁর আড়ালে মূলত একটি জমজমাট বার পরিচালিত হচ্ছিল, যেখানে উচ্চমূল্যে অবৈধ বিদেশি মদ ও বিয়ার সরবরাহ করা হতো। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছিল বলে শুল্ক গোয়েন্দা সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই ঘটনায় গুলশান থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং এর সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে শুল্ক ফাঁকি ও অবৈধ মাদকের রমরমা কারবার রোধে ভবিষ্যতে গুলশান ও বনানী এলাকার অন্যান্য বার এবং রেস্তোরাঁগুলোতেও নিয়মিত নজরদারি ও জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।