৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"বিরোধীদের তীব্র বিক্ষোভ এবং পদত্যাগের দাবির মুখে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ৭ ও ৮ অক্টোবরের নির্ধারিত ছত্তীসগঢ় সফর স্থগিত করা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কার্যালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ভোটার তালিকা সংশোধন ও সংসদীয় বিতর্কের জেরে উত্তর প্রদেশ, লাদাখ ও হিমাচল প্রদেশের পর এবার ছত্তীসগঢ় সফরও বাতিল করল নির্বাচন কমিশন।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ৭ ও ৮ অক্টোবরের নির্ধারিত ছত্তীসগঢ় সফর স্থগিত করা হয়েছে এবং নতুন কোনো সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি।
- জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদব, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুপ্রিয়া সুলে সহ বিরোধী জোটের সাংসদরা নির্বাচন সদন অভিমুখে বিক্ষোভ ও মিছিল করেন।
- নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে মিছিলের অনুমতি না পাওয়ায় আকাশবাণী ভবনের চত্বরে আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অবস্থান বিক্ষোভ করেন বিরোধী নেতারা এবং এক পর্যায়ে রাহুল-প্রিয়ঙ্কাকে কিছু সময়ের জন্য আটক করা হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার ও কমিশনের সিনিয়র আধিকারিকদের দুই দিনের ছত্তীসগঢ় পরিদর্শন স্থগিত রাখার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ৭ ও ৮ অক্টোবর এই সফর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কার্যালয় থেকে এটি স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলগুলির তীব্র আন্দোলন, সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার জল্পনা এবং সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন বিভিন্ন আবেদনের মাঝেই এই স্থগিতাদেশের বিষয়টি সামনে এল।
এর আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় কর্মসূচি এবং ‘ফর্ম ৬’-এ পরিবর্তনের বিষয় নিয়ে নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন মহলে সমালোচনার মুখে পড়েছিল। ছত্তীসগঢ় সফরে সিইসি-র দান্তেওয়াড়ার দন্তেশ্বরী মাতা মন্দির, বস্তারের চিত্রকোট জলপ্রপাত এবং কবিরধাম জেলার ভরামদেও মন্দির পরিদর্শনের কর্মসূচি ছিল। রাজ্য সরকার তাঁকে ‘রাষ্ট্রীয় অতিথি’র মর্যাদা দিয়ে রায়পুর প্রশাসন, পুলিশ এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাবতীয় অভ্যর্থনা ও নিরাপত্তার প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছিল। তবে কমিশনের তরফ থেকে সংশোধিত সময়সূচি না পাওয়ায় সফরটি অনির্দিষ্টকালের জন্য পেছাল।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্কের জেরে এর আগে উত্তর প্রদেশের মিরাট ও বারাণসী, লাদাখ, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডে জ্ঞানেশ কুমারের নির্ধারিত সফরগুলিও একইভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ভোটার তালিকা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধীরা দেশজুড়ে সরব হয়েছেন। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিরোধী জোটের সাংসদরা নির্বাচন সদন অভিযানের ডাক দেন এবং রাজধানী দিল্লিতে দিনভর চরম রাজনৈতিক নাটকীয়তা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে মিছিল করার অনুমতি না পাওয়ায় বিরোধী সাংসদরা আকাশবাণী ভবন চত্বরে আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অবস্থান বিক্ষোভে অংশ নেন। রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী ভদ্র, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, তৃণমূল কংগ্রেসের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এনসিপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলের মতো শীর্ষস্থানীয় নেতারা এই বিক্ষोভে নেতৃত্ব দেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে পুলিশ রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধীকে কিছু সময়ের জন্য আটক করে এবং পরবর্তীতে রাত ১০টার দিকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার ABP Ananda-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।