৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"এসআইআর বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যখন গোটা দেশ উত্তাল এবং কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো পথে নেমেছে, তখন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি জানিয়ে দিয়েছেন তিনি এই জোটে নেই। তবে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও কমিশনার নিয়োগ পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করে তিনি একে পেছনের দরজা দিয়ে এনআরসি চালুর অপচেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তরমন্তরে কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা ও তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েনসহ বিরোধী নেতারা বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন এবং তাদের আটক করা হয়।
- AIMIM প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, বিরোধী জোটের অংশ না হওয়ার কারণেই তারা এই আন্দোলনে পথে নামেননি এবং নিজের বিখ্যাত মন্তব্যে একে 'বেগানী শাদী মেঁ মেরা ক্যায়া কাম' বলে অভিহিত করেছেন।
- ওয়েইসি অভিযোগ করেছেন যে এসআইআর-এর নামে পেছনের দরজা দিয়ে এনআরসি (NRC) চালু করা হচ্ছে এবং প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের বর্তমান পদ্ধতি ত্রুটিপূর্ণ ও সরকারপন্থী।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
এসআইআর প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও ভোট চুরির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতি। এই দাবিতে কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি এবং ইন্ডিয়া জোটের অন্যান্য শরিক দলগুলো রাজধানীতে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও প্রতিবাদ মিছিল করলেও সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল এআইএমআইএম। বিরোধীরা বারবার তাদের এই অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিজেপি-র ‘বি-টিম’ হিসেবে কটাক্ষ করলেও, ওয়েইসি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি এই বিরোধী জোটের অংশ নন এবং অন্য কারও আন্দোলনে নামার প্রশ্নই ওঠে না।
পথে নেমে প্রতিবাদ না জানালেও নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম এবং এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওয়েইসি। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর-এর নামে মূলত পিছনের দরজা দিয়ে এনআরসি (NRC) বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ১৯৬০ সালের মতো পুরনো নথিপত্র চেয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। অতীতে অসমে এনআরসি প্রক্রিয়ার ফলে সৃষ্ট জটিলতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, কোটি কোটি মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের বর্তমান আইন ও পদ্ধতি নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন এআইএমআইএম প্রধান। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী, একজন মন্ত্রী এবং বিরোধী দলনেতার সমন্বয়ে গঠিত ২:১ অনুপাতে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ কমিটি মূলত সরকারের একপেশে সিদ্ধান্তকেই সিলমোহর দেয়। এই প্রক্রিয়া সংশোধন করে নিয়োগ কমিটিতে দেশের প্রধান বিচারপতিকে অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো দাবি জানান তিনি, যাতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা বজায় থাকে।
এদিকে, বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো করা হয়েছে। বুধবার দিল্লির যন্তরমন্তরে কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলের কর্মসূচি ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার সময় রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরাসহ শীর্ষস্থানীয় বিরোধী নেতাদের আটক করা হয়। এমতাবস্থায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও এসআইআর সংক্রান্ত বিতর্ক জাতীয় রাজনীতিতে আগামী দিনে আরও বড় সংঘর্ষের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার ABP Ananda-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।