দেশে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছর রোগটিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২০৪ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বিশেষ টিকাদান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। চিকিৎসকরা দ্রুত টিকা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- হামের উপসর্গে দেশব্যাপী নতুন করে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার ফলে চলতি বছরে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২০৪ জনে।
- সিলেট অঞ্চলে সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় একদিনেই নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১শ ১৮ জন শিশু রোগী।
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী জরুরি ভিত্তিতে হামবিরোধী টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশে হামের প্রকোপ মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে ভাইরাসজনিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২০৪ জনে পৌঁছাল। স্বাস্থ্য বিভাগ ও হাসপাতাল সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে এই রোগের প্রাদুর্ভাব অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। সম্প্রতি সিলেট বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে নতুন কোনো মৃত্যুর খবর না মিললেও, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১১৮ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, আক্রান্তদের বেশিরভাগের শরীরেই হামের ক্লাসিক্যাল উপসর্গ ও শ্বাসকষ্টের জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এর বিশেষজ্ঞরা জানান, অসচেতনতা এবং সময়মতো টিকা না নেওয়ার কারণেই মূলত পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিশুদের সঠিক সময়ে এমআর (মিজলস-রুবেলা) টিকা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অপুষ্টিতে ভোগা শিশুরা এই ভাইরাসে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করতে হবে। অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে এই সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা শিশু স্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরণের হুমকি তৈরি করছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।