বাংলাদেশে হামের সংক্রমণ ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে দেশে চলতি বছর হামে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৮২ জনে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে নতুন করে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে, যা স্বাস্থ্যখাতে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
- চলতি বছর দেশজুড়ে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১২৮২ জনে।
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হামের পাশাপাশি ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবও তীব্র আকার ধারণ করেছে, যা দেশের সার্বিক জনস্বাস্থ্যকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বাংলাদেশে হামের সংক্রমণ ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দেশজুড়ে আরও দুজনের প্রাণহানি ঘটেছে। এই দুই মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চলতি বছরে হামে আক্রান্ত হয়ে কিংবা এর উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৮২ জনে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নেওয়া এবং টিকাদানের হ্রাসের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীত ও পরিবর্তনশীল মৌসুমে হামের ভাইরাসের বিস্তার দ্রুত ঘটে। এর আগে গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুদের ভর্তির হার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, টিকাদান কর্মসূচিতে কিছু ঘাটতি থাকায় নতুন প্রজন্ম এই ভাইরাসের ঝুঁকিতে বেশি পড়ছে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে হাম ও অন্যান্য মৌসুমী রোগের চিকিৎসায় বিশেষ ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হলেও রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।
এদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র হাম নয়, এর সাথে ডেঙ্গুর মতো অন্যান্য রোগও একযোগে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী হামের বিরুদ্ধে শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনার দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন মহল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেও অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার এবং শিশুদের জ্বর ও হামের উপসর্গ দেখা মাত্রই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সার্বিক এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে টিকাদান কর্মসূচি আরও বেগবান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে না আসলে এটি মহামারী রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য গবেষকরা। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও গণসচেতনতা বৃদ্ধিই এই সংকট উত্তরণের একমাত্র উপায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।