৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"নামিবিয়ার মরুভূমিতে ফটোগ্রাফার ফেদেরিকো ভেরোনেসির ধারণ করা একটি মৃত শাবক বহনকারী মাদি হাতির বিরল ছবি ২০২৬ সালের ‘ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার’ প্রতিযোগিতায় প্রধান পুরস্কার জিতেছে। পরে জানা যায়, ১৪ বছর বয়সী ওই হাতিটি দুই বছর আগে নিজের শাবক হারিয়েছিল এবং এটি তার নিজের নয়, বরং অন্য এক মৃত শাবক ছিল। যা হাতিদের গভীর শোক ও মানসিক জটিলতার পরিচয় দেয়।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ফটোগ্রাফার ফেদেরিকো ভেরোনেসির তোলা নামিবিয়ার মরুভূমির হাতির শোক প্রকাশের ছবি লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম কর্তৃক আয়োজিত ২০২৬ সালের ‘ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার’ প্রতিযোগিতায় প্রধান পুরস্কার জিতেছে।
- সংরক্ষণ কর্মসূচি পরিচালক ক্রিস্টিন উইন্টার জানান, মৃত শাবক বহনকারী ১৪ বছর বয়সী মাদি হাতিটি দুই বছর আগে নিজের শাবক হারিয়েছিল এবং অতীতে তাকে চারবার অন্য হাতির মৃত শাবক বহন করতে দেখা গেছে।
- পরিবেশগত চাপ, খরা এবং মানুষের সঙ্গে সংঘাতের কারণে নামিবিয়ার মরুহাতিদের নবজাতক মৃত্যুর হার অত্যন্ত বেশি, যেখানে ২০১৪ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া ১৬টি শাবকের মধ্যে মাত্র দুটি বেঁচে ছিল।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
নামিবিয়ার মরুভূমিতে একটি শুকনো নদীখাত ধরে হেঁটে চলা একদল হাতিকে অনুসরণ করার সময় প্রখ্যাত ফটোগ্রাফার ফেদেরিকো ভেরোনেসি এক অভাবনীয় ও হৃদয়বিদারক দৃশ্যের মুখোমুখি হন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনায় দেখা যায়, একটি মাদি হাতি তার শুঁড়ে জড়িয়ে একটি মৃত নবজাতক শাবককে বয়ে নিয়ে চলেছে। ভেরোনেসির ক্যামেরায় বন্দী হওয়া এই দৃশ্যটি পরবর্তীতে লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম কর্তৃক আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ ২০২৬ সালের ‘ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার’ প্রতিযোগিতায় প্রধান পুরস্কার অর্জন করেছে। ছবিটিতে হাতির মানসিক জগতের এক বিরল ও সংবেদনশীল চিত্র ফুটে উঠেছে, যা সাধারণের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি গভীর।
ঘটনার গভীরে গিয়ে জানা যায়, দৃশ্যটিতে প্রথম দর্শনে যাকে মা হাতি বলে মনে হয়েছিল, বাস্তবে তা ছিল ভিন্ন এক প্রেক্ষাপট। নামিবিয়ার মরুভূমির হাতিদের সুরক্ষায় কর্মরত অলাভজনক সংস্থা ‘এলিফ্যান্ট হিউম্যান রিলেশনস এইড’ (ইএইচআরএ)-এর সংরক্ষণ কর্মসূচি পরিচালক ক্রিস্টিন উইন্টার জানান যে, ১৪ বছর বয়সী ওই মাদি হাতিটি দুই বছর আগেই তার নিজের শাবক হারিয়েছিল। এরপর থেকে তাকে চারবার অন্য কোনো হাতির মৃত শাবক বহন করতে দেখা গেছে। এই অঞ্চলের হাতিদের মধ্যে এ ধরনের আচরণ এই প্রথম নথিভুক্ত করা হলো। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ওই হাতির দীর্ঘস্থায়ী মৃত্যুশোক সামলে ওঠার বা হারিয়ে যাওয়া সন্তানের সঙ্গে পুনরায় সংযোগ স্থাপনের একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রচেষ্টা হতে পারে।
নামিবিয়ার এই মরুহাতিরা কোনো স্বতন্ত্র প্রজাতি নয়, বরং শুষ্ক পরিবেশের সঙ্গে অর্জিত আচরণের মাধ্যমে খাপ খাইয়ে নেওয়া একটি বিশেষ বাস্তুতান্ত্রিক গোষ্ঠী। বর্তমানে নামিব মরুভূমির পাঁচটি নদীখাত বরাবর প্রায় ১৫০টি সহনশীল মরু হাতি বসবাস করলেও তাদের অস্তিত্ব নানা সংকটের মুখে। গত দুই দশক ধরে খরা এবং বিশেষ করে পানির দখল নিয়ে মানুষের সঙ্গে তীব্র সংঘাতের কারণে তাদের সংখ্যা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। খামারে ঢুকে পানির ট্যাংক ও পাইপ ক্ষতিগ্রস্ত করার ফলে স্থানীয় মানুষের সহ্যশক্তিও কমে গেছে, যা এই বন্যপ্রাণীদের জীবনকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
এছাড়া, নবজাতক হাতির উচ্চ মৃত্যুহার এই জনগোষ্ঠীর টিকে থাকার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান অন্তরায় হিসেবে দেখা দিয়েছে। ইএইচআরএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া ১৬টি শাবকের মধ্যে মাত্র দুটি বেঁচে ছিল। মানুষের সঙ্গে সংঘাতের ফলে সৃষ্ট দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ এবং অপুষ্টির কারণে অনেক সময় শাবকগুলো অপরিণত অবস্থায় জন্মগ্রহণ করে, যার ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম হয়। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হাতিদের আবেগপ্রবণ জীবন ও সংকটের গল্পগুলো মানবসমাজে গভীর প্রভাব ফেলে এবং তাদের সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করে তোলে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার বিবিসি বাংলা-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।