কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারবিরোধী যৌথ অভিযানে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত সেনাসদস্য তিতাস শেখের মরদেহ সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে ফরিদপুরের নগরকান্দায় আনা হয়। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে অবতরণের পর তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে মাগরিবের নামাজ শেষে জানাজা সম্পন্ন করে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গত ৫ নভেম্বর টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলাকালীন পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন সেনাসদস্য তিতাস শেখ।
- রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর শুক্রবার বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে তার মরদেহ ফরিদপুরের নগরকান্দায় পৌঁছায়।
- উপজেলার সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে গার্ড অব অনার প্রদান শেষে আতিকুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মাগরিবের নামাজ বাদ জানাজা সম্পন্ন করে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযানে নিহত সেনাসদস্য তিতাস শেখের মরদেহ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় দাফন করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে করে তার মরদেহ নগরকান্দার সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে এসে পৌঁছায়। এ সময় সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসন এবং শত শত সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। মাঠে অবতরণের পর সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে শহীদ এই সেনাসদস্যকে শেষ শ্রদ্ধা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় মানবপাচারকারীদের আস্তানায় যৌথ বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানকালে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত গুলিবর্ষণে সেনাসদস্য তিতাস শেখ গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার জীবন প্রদীপ নিভে যায়। তার এই আকস্মিক প্রয়াণে লস্করদিয়া গ্রামের বাড়ি জুড়ে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান ও স্বামীকে হারিয়ে তার মা এবং স্ত্রী শোকে পাথর হয়ে গেছেন, যাদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলেন না এলাকাবাসী।
মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আতিকুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মাগরিবের নামাজের পর মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে স্থানীয় পারিবারিক কবরস্থানে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল তার কফিনে শেষ সালাম জানায়।
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের এমন আত্মত্যাগ দেশবাসীর হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিতাসের এই মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়, বরং পুরো জাতির জন্যই এক অপূরণীয় বেদনার বিষয়। মানবপাচার ও অপরাধ দমনে যৌথ বাহিনীর চলমান এই কঠোর অভিযানের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং শহীদ সেনাসদস্যের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় প্রশাসন ও সামরিক কর্মকর্তারা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।