কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে গোসল করতে নেমে ঢেউ ও প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়ার ঘটনায় হারুন নামের আরও এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর ফলে ২২ অক্টোবর সকালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারজনে। ২১ অক্টোবর সন্ধ্যায় মেরিনা রিসোর্ট সংলগ্ন সৈকতে পর্যটকদের একটি দল এই দুর্ঘটনার শিকার হয়। পুলিশ ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে হিমছড়ির সাগর নিবাস এলাকা থেকে হারুন নামের নিখোঁজ যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যার ফলে এই দুর্ঘটনায় মোট মৃতের সংখ্যা ৪ জনে উন্নীত হয়েছে।
- ২১ অক্টোবর সন্ধ্যায় কক্সবাজারের হিমছড়ির মেরিনা রিসোর্ট সংলগ্ন সৈকতে গোসল করতে নামা পর্যটক দলের সদস্যরা সাগরের প্রবল স্রোতে ভেসে যান, যাদের মধ্যে নিহত রোহানের বয়স ২৩ বছর এবং তিনি রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ীর বাসিন্দা।
- রামুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লর রহমান জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় কয়েকজনকে উদ্ধারের পাশাপাশি হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয় এবং অপর নিখোঁজ পর্যটকদের উদ্ধারে পুলিশ ও প্রশাসন তৎপর রয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে সাগরের প্রবল ঢেউ ও স্রোতের টানে ভেসে যাওয়ার ঘটনায় হারুন নামের আরও এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে হিমছড়ির সাগর নিবাস এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মাধ্যমে গত ২১ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঘটা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পর্যটকদের একটি দল বুধবার সন্ধ্যায় হিমছড়ির মেরিনা রিসোর্টের জাদুঘরসংলগ্ন সৈকতে সাগরে গোসল করতে নেমেছিলেন।
দুর্ঘটনার শিকার পর্যটক দলের মধ্যে নিহত রোহানের (২৩) বাড়ি রাজধানী ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ী এলাকায় এবং তার বাবার নাম মুকাররম হোসেন। এছাড়া নিহত আরেক যুবকের নাম শহীদুল ইসলাম (২৩) এবং নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন ঢাকার আজিমপুরের বাসিন্দা নাবিবুর রহমানের ছেলে নাফিসুল হক নিবিড় (২২)। হঠাৎ সাগরের জোয়ারের প্রবল স্রোত ও বড় ঢেউয়ের কবলে পড়ে তারা সবাই পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ও সৈকতকর্মীরা দ্রুত উদ্ধারে এগিয়ে আসেন এবং বেশ কয়েকজনকে পানি থেকে তুলে আনেন। সৈকতকর্মী মাহবুব রহমান জানান, ঘটনাস্থল থেকেই দুজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়। রামুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, প্রশাসনের তদারকিতে পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা বাকি নিখোঁজ পর্যটকদের সন্ধানে সাগরে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও বিচিং গাইডলাইন্স নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বা ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সতর্কতা জারি এবং লাইফগার্ডের উপস্থিতি জোরদার করার ওপর জোর দিচ্ছেন সচেতন মহল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা মেনে চলার এবং অপ্রয়োজনে গভীর পানিতে না নামার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।