নৈহাটির ঐতিহ্যবাহী বড়মার পূজা উপলক্ষে ১১০ কেজি সোনা ও রুপোর গহনায় দেবী প্রতিমাকে সাজানো হয়েছে, যার প্রধান আকর্ষণ একটি হিরের টিপ। ১০৩ বছর পর মন্দিরের ফলকে নাম পরিবর্তনের পর থেকে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মনস্কামনা পূরণের আশায় হাজার হাজার পুণ্যার্থী দণ্ডি কাটা ও পুষ্পাঞ্জলি দিতে সকাল থেকেই ভিড় জমিয়েছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- নৈহাটির বড়মার প্রতিমা সাজাতে মোট ১১০ কেজি সোনা ও রুপোর গহনা ব্যবহার করা হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় সংযোজন একটি হিরের টিপ।
- দীর্ঘ ১০৩ বছর পর বড়মার মন্দিরের নামফলকে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় বিধায়ক ও মন্দির কমিটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
- মনস্কামনা পূরণের পর কৃতজ্ঞতা জানাতে এবং আশীর্বাদ নিতে দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা এসে দণ্ডি কেটে ও পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে পূজা নিবেদন করছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটির ঐতিহ্যবাহী বড়মা এবার ১১০ কেজি সোনা এবং রুপোর মহামূল্যবান গহনায় সেজে ভক্তদের নজর কেড়েছেন। দেবী প্রতিমার এই রাজকীয় রূপ দেখতে এবং আশীর্বাদ নিতে সকাল থেকেই নৈহাটিতে ভক্তদের বিশাল সমাগম ঘটে। এ বছরের পূজার প্রধান আকর্ষণ দেবীর ললাটে শোভা পাওয়া একটি চোখ জুড়ানো হিরের টিপ, যা প্রতিমার সামগ্রিক সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে দর্শনার্থীরা দেবীর দর্শন লাভ করছেন।
ঐতিহাসিক এই পূজার একটি বড় পরিবর্তন এসেছে চলতি বছরে। ১০৩ বছর পূর্তির পর বড়মার মন্দিরের মূল ফলকে নাম পরিবর্তন করা হয়েছে, যার নেপথ্যের কারণ ও প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেছেন স্থানীয় বিধায়ক। এই পরিবর্তন ভক্তদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করলেও মন্দিরের ঐতিহ্য ও ভক্তিতে কোনো ঘাটতি পড়েনি। বারাসাত ও নৈহাটিসহ আশেপাশের অঞ্চল থেকে আসা ভক্তরা বিপদে ভরসা এবং মনস্কামনা পূরণের আশ্রয় হিসেবে বড়মার শরণাপন্ন হচ্ছেন।
পূজা মণ্ডপ প্রাঙ্গণে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে এবং পুণ্যার্থীদের নির্বিঘ্নে দণ্ডি কাটা ও পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার ব্যবস্থা করতে স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা কমিটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী ভক্তরা লাইনে দাঁড়িয়ে দণ্ডি কেটে মনস্কামনা পূরণের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। কঠোর নিরাপত্তার বলয়ে ঘেরা এই নৈহাটির বড়মার পূজা দেখতে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় জমাচ্ছেন।
নৈহাটির বড়মার এই উৎসব কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি বাংলার লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। সোনা-রুপোর অলংকার খচিত প্রতিমার এই রূপ এবং ভক্তদের উপচে পড়া অংশগ্রহণ স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রতিবছর জাঁকজমক বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বড়মার এই পূজার আবেদন বিশ্ববাসীর দরবারে আরও জোরালো হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।