রাজধানীর নিউ মার্কেট ও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত হকারমুক্ত ও দখলমুক্ত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা উত্তর (ডিএনসিসি) ও দক্ষিণ (ডিএসসিসি) সিটি কর্পোরেশন। উচ্ছেদকৃত ফুটপাতগুলোতে ইতোমধ্যে গাছ লাগিয়ে সবুজায়ন শুরু হয়েছে। সাধারণ পথচারীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে প্রশাসনের এই ধারাবাহিক অভিযানে ঢাকা শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ফিরেছে নতুন স্বস্তি ও শৃঙ্খলা।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে নিউ মার্কেট এলাকার ফুটপাত সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করে সেখানে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য গাছ লাগানো হয়েছে।
- ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক হকারদের পুনর্বাসন ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও কঠোর নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন।
- মিরপুর-১ সহ বিভিন্ন অঞ্চলে হকার উচ্ছেদ অভিযানের পাশাপাশি ফুটপাতের ওপর ঝুলন্ত অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের মতো প্রাণঘাতী ঝুঁকি দূর করতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানীর জনবহুল ফুটপাতগুলো হকার ও অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে মুক্ত করতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দীর্ঘদিনের তীব্র জনদুর্ভোগ লাঘব এবং পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি যৌথভাবে এই বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে। বিশেষ করে নিউ মার্কেট ও মিরপুর-১ এলাকার মতো ব্যস্ততম পয়েন্টগুলোতে ফুটপাত খালি করার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবুজায়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়েছে, যা নগরবাসীর নজর কেড়েছে।
অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব এবং চাঁদাবাজির কারণে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। এর ফলে সাধারণ পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়কে হাঁটতে হতো, যা প্রায়ই মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ঘটাত। সাম্প্রতিক অভিযানে নিউ মার্কেটের ফুটপাত পুনরুদ্ধারের পর ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ তা হকারদের পুনরায় দখল থেকে রক্ষায় কড়া পাহারা বসিয়েছে। অন্যদিকে, মিরপুর-১ এলাকায় হকারদের মনে গ্রেফতার ও উচ্ছেদ আতঙ্ক বিরাজ করলেও ফুটপাতের ওপর ঝুলিয়ে রাখা অবৈধ বিদ্যুতের তারের মতো মারাত্মক মৃত্যুফাঁদ অপসারণে বিদ্যুৎ বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশন যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, নগরবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে ফুটপাতে কোনো প্রকার অবৈধ স্থাপনা বা হকার বসতে দেওয়া হবে না। উচ্ছেদকৃত স্থানগুলোতে নিয়মিত তদারকি রাখতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নগরীর পরিবেশ রক্ষায় দখলমুক্ত ফুটপাতের পাশে সৌন্দর্যবর্ধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
ফুটপাত হকারমুক্ত হওয়ার ফলে প্রতিদিন যাতায়াতকারী লাখ লাখ সাধারণ মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু ফুটপাতকে পথচারী-বান্ধবই করবে না, বরং ঢাকার তীব্র যানজট কমাতে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে এই শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজন হকারদের জন্য স্থায়ী ও উপযুক্ত পুনর্বাসন নীতিমালা এবং সিটি কর্পোরেশনের দীর্ঘমেয়াদি কঠোর নজরদারি।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।